করুনারত্নেতে আস্থা সাঙ্গাকারার

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে নড়বড়ে ও মাঠের বাইরে ঝামেলায় জড়িয়ে থাকা দলটির নাম শ্রীলঙ্কা। ২০১৯ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই সময়ে শ্রীলঙ্কা তাদের গত ১০ ওয়ানডেতে একটামাত্র জয় পেয়েছে; তাও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। সেইসাথে তাদের দল নিয়ে আছে বিতর্ক। দিনেশ চান্দিমালের মতো পরীক্ষিত পারফরমারের দলে জায়গা হয়নি। এরকম বাদ পড়েছেন অনেক নিয়মিত পারফরমার। অন্যদিকে একেবারে আনকোরা এবং দীর্ঘদিন ওয়ানডে ক্রিকেটের বাইরে থাকা অনেকেই এসেছেন ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে। দলটির অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে নিজেই এই গোলমালের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। প্রায় চার বছর ধরে ওয়ানডে না খেলা এই ওপেনারকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়েছে এবং অধিনায়ক করা হয়েছে। ফলে এই দলটির ওপর অনেকে আগে থেকেই আশা হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সাবেক সফল অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা এই আশা হারানোদের দলে নন। তিনি বলছেন, এইসব মাঠের বাইরের ব্যাপারকে পেছনে ফেলে এই ১৫ সদস্যের দলই বিশ্বকাপের মেগা ইভেন্টে জ্বলে উঠতে পারে।

লর্ডসে বসেই কথা বলতে গিয়ে সাঙ্গাকারা বলছিলেন, এই দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সবকিছুই গোলমালে ভরা ছিলো, ‘এটা একেবারেই গোলমেলে ব্যাপার ছিলো। দল নির্বাচনে ধারাবাহিকতার বিচার বলেন এবং খেলোয়াড়দের ভালো ও ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন; কোনোটাই ছিলো না। অথচ এগুলো দরকার ছিলো। আপনি যদি ধারাবাহিকভাবে এরকম অদল-বদল করতে থাকেন, তাতে প্রতিটা খেলোয়াড়কে সবসময় পেছন ফিরে দেখতে হবে, তার নিরাপত্তাবর্ম ঠিক আছে কি না। এরফলে তারা দলের কৌশল নিয়ে, নিজের খেলা নিয়ে কাজ করতে পারবে না। আমি মনে করি, এটা আমাদের দলের জন্য এখন বড় একটা সমস্যা।’

এই সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে করুনারত্নের নাম। ৩১ বছর বয়সী এই ওপেনারের দলে সুযোগ পাওয়াটাই একটা বিস্ময়কর ব্যাপার ছিলো। এরপর তাকে অধিনায়ক করাটা আরো বিস্ময়ের ব্যাপার। তবে সাঙ্গাকারা বিশ্বাস করেন, এতো কিছুর পরও করুনারত্নে ভালো একজন নেতা। তার পক্ষেই সম্ভব এই খারাপ সময়টা পেছনে ফেলা, ‘দিমুথ করুনারত্নে খুবই যোগ্য একজন খেলোয়াড়। টেকনিক্যালি সে খুব নিশ্ছিদ্র, আর গত দুই বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে সে অনেক সাফল্য পেয়েছে।

এখন ওয়ানডে ক্রিকেটে দুটো নতুন বল থাকায় একজনকে আপনার দরকার যে ইনিংসটা টেনে নিয়ে যেতে পারবে।

এখন লম্বা সময় ধরে ব্যাট করাটা দলের জন্য খুব জরুরি। করুনারত্নে যেহেতু মাত্রই দলে এসেছে এবং সতেজ একজন অধিনায়ক। সে দলকে এই ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে। সম্প্রতি মাঠে ও মাঠের বাইরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার বোঝাও বহন করছে না।

গত দুই, আড়াই বছর ধরে দলের তো অনেক সমস্যা যাচ্ছিলো। তার দলের কারো সাথে দলাদলি বা এসব করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে ওর ভালো করার কথা।’