অশনাক্ত কবর ঘিরেও স্বজনহারাদের কান্না
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৯
রানা প্লাজা ধসের বছর পার হয়ে গেলো। তবু পরিচয় মেলেনি দেড় শতাধিক লাশের। তাদের স্বজনদের লাশ পাওয়ার শেষ ভরসা এখনো জুরাইন কবরস্থান। প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে নিখোঁজ লাশের স্বজনরা ছুটে আসেন জুরাইন কবরস্থানে। বেওয়ারিশ লাশ শনাক্ত করতে তারা ছুটে বেড়ান ঢাকা মেডিকেল থেকে জুরাইন কবরস্থান পর্যন্ত।
শনাক্ত না হওয়া শ্রমিকের লাশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জুরাইন কবরস্থানে ভিড় করছেন শ্রমিকদের স্বজন আর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো। ভিড় করছেন স্থানীয়রাও। কবরের পাশে শুধু ডিএনএ টেস্টের নম্বর দেওয়া রয়েছে। কিন্তু কোনটি কার কবর তা শনাক্ত করতে পারছেন না স্বজনরা। অশনাক্ত লাশটিকেই আপনজন মনে করে কেঁদে উঠছেন তারা।
রানা প্লাজায় নিহত হওয়া নুরজাহানের বাবার সঙ্গে কথা হয়। নুরজাহান রানা প্লাজার একটা গার্মেন্টস এ কাজ করতো। তার লাশও পাওয়া যায়নি। গতকাল জুরাইন কবরস্থানে এসে ডিএনএ নম্বর দিয়ে চেষ্টা করছিলেন মেয়ের কবর খুঁজে পাওয়ার। তার হাতে ছিল মেয়ের ছবি। এ ছবি দিয়ে আর তার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, সেটা তিনি বিশ্বাস করতে নারাজ। আক্ষেপ করে বললেন, লাশটাও পাবো না, এটা কেমন কথা?
কথা হয় গাইবান্ধার সিরাজ আহমেদের সঙ্গে। রানা প্লাজা ধসে নিহত হয়েছেন তার মেয়ে ফাতেমা। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করলেও পরিচয় মেলেনি। তিনি ধারণা করছেন, মেয়ের লাশ অজ্ঞাত পরিচয়ে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে ডিএনএ টেস্ট করালেও লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই কোন কবরটি তার মেয়ের তা নিশ্চিত হতে পারেননি।
সিরাজগঞ্জের শারমিনের ছবি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারও জুরাইন কবরস্থানে এসেছেন তার মা আয়েশা বেগম। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আপনার মেয়ের কবর কোনটা জানতে পেরেছেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, সব কবরই আমার মেয়ের।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সাভার ট্রাজেডিতে নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাত ২৩৪টি লাশ দাফন করা হয়। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরে বেশ কিছু লাশের পরিচয় জানা গেলেও অধিকাংশ কবর অজ্ঞাত লাশের।
জানা গেছে, শ্রম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তালিকায় নিখোঁজের সংখ্যা বলা হয়েছে ৩৭৯ জন। উদ্ধারকারীদের নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনীর নিখোঁজ তালিকায় বলা হয়েছে ২৬১ জন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পাওয়া যায় ১৫৭ জনের খোঁজ। দ্বিতীয় দফায় পরিচয় মেলে ৪২ জনের। শ্রম মন্ত্রণালয়ের তালিকা ধরে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৮০ জন শ্রমিক।