রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টা করেছে সরকার
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৭
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে অর্থ সহায়তা এসেছে তা অপব্যবহার করা হয়েছে। এটা পুঁজি করে রাজনীতিতে সফল হয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির আন্দোলন প্রভাবিত করার জন্য শুরু থেকেই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে সরকার।
রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সে সময়ে বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ভবন ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও আওয়ামী লীগ নেতারা পোশাক শ্রমিকদের ওই ভবনে কাজ করতে বাধ্য করে। আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে অনেক দেশ রয়েছে; যারা বাংলাদেশে পোশাক শিল্প টিকে থাকুক তা চায় না। তারা এ দেশের পোশাক শিল্প ধ্বংসে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
এদিকে রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য গঠিত তহবিলে জমা পড়া অর্থের পরিমাণ ও খরচের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। রানা প্লাজা ধসের বছর পূর্তিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।
অন্যদিকে, দিনটি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মিলাদ-মাহফিলের আগে শ্রমিক দল সেখানে মিছিল বের করলে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মিছিল থেকে পুলিশ এক কর্মীকে আটক করেছে।
মানববন্ধনে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, যতটুকু জানা গেছে, ওই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১২৮ কোটি টাকা জমা হয়েছে। পত্রিকার খবরে এসেছে, এ পর্যন্ত ২২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। তাহলে বাকি অর্থের কী হল? কত অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হোক।
তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের অধিকাংশই বেকার জীবন-যাপন করছেন।
ব্যারিস্টার রফিক বলেন, এই ঘটনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেছিলেন, সরকার নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করবে। এখন সরকার ওই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কী বলবে? রানা প্লাজা ধস তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি। মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, রফিক শিকদার, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।