ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে আগামী ৭ জুন দলের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে তিনি যুক্তরাজ্য সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগতজানাবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী খোঁজা শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। খবর বিবিসির
ব্রেক্সিট অর্থাত্ ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের ব্যাপারে তার নতুন পরিকল্পনা মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে না এটা স্পষ্ট হবার পরই তার পদত্যাগের ঘোষণা এলো। গতকাল সকালে লন্ডনে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এক আবেগপূর্ণ বিবৃতিতে মে তার বিদায়ের কথা ঘোষণা করেন। মে বলেন, এটা আমার কাছে খুব দুঃখের বিষয় যে, ব্রেক্সিট আমি করতে পারলাম না। এই দুঃখটা আমার থেকেই যাবে। আগামী ৭ জুন কনজারভেটিভ ও ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেত্রী পদে আমি ইস্তফা দেব। সংক্ষিপ্ত বিবৃতির শেষে তার গলা ভেঙে আসে, চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। তবে কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। জুনের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সফর করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
ব্রিটেনের বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেদিন তিনি বিদায় নেবেন সেদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দুই বছর ৩২৭ দিন পূর্ণ হবে। মার্গারেট থ্যাচারের পর তিনি ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে দুই কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হলো। প্রথমজন ডেভিড ক্যামেরন যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের সেই গণভোটে ৫২ ভাগ ইইউ ত্যাগের পক্ষে এবং ৪৮ ভাগ ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট পড়ে। এরপরই ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ তিনি গণভোটের সময় ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। দ্বিতীয়জন হতে যাচ্ছেন থেরেসা মে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবার পর অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু কিভাবে সেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন হবে সেটির এমন কোনো পরিকল্পনা গতকাল পর্যন্ত তিনি দিতে পারেননি যা পার্লামেন্টের অনুমোদন পায়। দলের মধ্যেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। মে বলেছেন, তিনি আশা করেন, তার উত্তরসূরী ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কনজারভেটিভ পার্টি এখন নতুন একজন নেতা নির্বাচন করবে যিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্যদের তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাব, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এবং পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভের নাম শোনা যাচ্ছে।