গরমে খাবার তালিকা

সারা বছরের খাদ্য তালিকা এক রকম থাকে না। তা ছাড়া বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, চাহিদা, সময়, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি অনুযায়ী খাবারের তালিকা একজনের চেয়ে অন্যজনের ভিন্ন। কিন্তু আসল কথা হলো, সুষম খাদ্য খাওয়া আমাদের জন্য জরুরি। তাই গরমকালেও তার ব্যতিক্রম হয় না। গরমে সকালের খাবার সকালে নাশতা হিসেবে দই-চিঁড়া, আম-চিঁড়া, ছোলা ভেজানো (চিনি বা গুড় দিয়ে মেখে খাবেন), ছোলার ছাতু, রুটি, পাউরুটি, ভাত, ডাল বা তরকারি। এর সাথে গ্রীষ্মকালীন ফল যেমন- আম, অল্প পরিমাণে কাঁঠাল, কলা খেতে পারেন। গরমে দুপুরের খাবার যারা দুপুরে ভারী খাবার গ্রহণ করেন তাদের জন্য ভাত, প্রচুর শাকসবজি, ছোট-বড় মাছের হালকা রান্না, ডালসহ গোশত, ডিম অভ্যাস মতো পরিমাণে খেতে পারেন। যাই খান না কেন সালাদ কিন্তু থাকবেই। যারা দুপুরে হালকা খাবার গ্রহণ করেন তাদের জন্য বড় সুবিধাকর হলো প্রচুর পরিমাণ ফল যেমন- তরমুজ, আম, কাঁঠাল, শসা, কলা, লিচু, জামরুল খাবেন। সাথে নুডুলস, দুটো রুটি সবজি, ডাল বা ডিম দিয়ে খেতে পারেন। গরমে সন্ধ্যার খাবার সন্ধ্যায় শরবত বা চা কফির পাশাপাশি রসালো ফল- তরমুজ, জামরুল, শসা খেতে পারেন। সে সময়ে দুধের তৈরি পরিমাণমতো মিষ্টিও খেতে পারেন। গরমে রাতের খাবার গরমে রাতের খাবার হবে খুবই সহজ। ভাত বা রুটি সাথে মাছ, সবজি, ডাল বা দুধ-আম খেতে পারেন অল্প পরিমাণে। গরমে শোয়ার আগে আপনি এ সময়ে খেতে পারেন এক গ্লাস পানি বা হালকা শরবত বা অভ্যাস থাকলে এক গ্লাস দুধ। তার মানে এই নয় যে, গরমকালে পোলাও, বিরিয়ানি খাওযা যাবে না। খাওয়া যাবে তবে তা পরিমাণমতো, ওভারলোডিং করা যাবে না এবং এগুলো এক নাগাড়ে কয়েক বেলাতে খাওয়া ঠিক হবে না। রান্নাতে তেল পরিমাণমতো থাকবে, মসলা কম খেলে ভালো। প্রতি বেলায় সালাদ খাওয়া যাবে। প্রচুর তরল পানীয় পান করতে হবে তবে খুব বেশি ঠাণ্ডা খাওয়া চলবে না। এ সময়ে আইসক্রিমও খাওয়া যাবে তবে তা প্রচণ্ড গরমে ঘর্ম অবস্থায় না খেয়ে একটু ঠাণ্ডা হয়ে অথবা সন্ধ্যার দিকে খেতে পারেন। শুয়ে পড়ুন মেঝের ওপর ফোমের বিছানা কিংবা জাজিম, তোশক গুটিয়ে রাখুন। ভালো করে ধুয়ে মুছে সটান করে শুয়ে পড়ুন মেঝের ওপর। আপনার কোমরে কিংবা পিঠে ব্যথা থাকলে তো সোনায় সোহাগা। গরম তাড়ানোর পাশাপাশি ব্যথার চিকিত্সাও হয়ে গেল। মেঝের শীতল অনুভূতি শীতল করে তুলবে আপনার শরীরকে। চমত্কার ঘুম হবে আপনার। মাথার ওপর অবিরাম ছেড়ে রাখুন ফ্যান। দেখবেন গরম কোথায় পালায়! গরমে পানীয় একজন স্বাভাবকি পূর্ণ বয়সের মানুষকে গরমকালে কমপক্ষে তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার পানীয় পানের প্রয়োজন। এর মধ্যে বেশির ভাগই থাকবে নিরাপদ পানি। তারপর শরবত (চিনি বা গুড় ও লেবুর তৈরি, ইসবগুলের বা বেলের শরবত), ফলের রস (আমের রস, তরমুজের রস), জুস, লাচ্চি (যা খুব বেশি ঠাণ্ডা হবে না), হালকা গরম চা বা কফি, হালকা গরম পাতলা স্যুপ, কোমল পানীয়, ডাবের পানি, কোল্ড চা বা কফি এবং ক্ষেত্র বিশেষে খাবার স্যালাইনসহ তরল খাবার বেশি খান বিভিন্ন মাংস, ডিম ও চর্বি জাতীয় খাবারের কথা ভুলে যান। স্যুপ, ফলের রস খান। সবজি বাদ দেবেন না। শরীর থেকে ঘামের সাথে বেরিয়ে যাচ্ছে লবণ। আপনি খাবার স্যালাইন খান। ডাবের পানি, তরমুজে ভরিয়ে ফেলুন পাকস্থলী। এই গরমে কিছু টিপস আপনি অন্তত দিনে দু’বার ভালো গোসল করতে পারেন। গোসলের পর পাউডার, ডিওডেরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। গরমে বন্ধ জুতা বা মোজা থেকে পায়ে গন্ধ হলে নিমপাতা ও হলুদ একসাথে বেটে পায়ে লাগান, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। রোদে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে বের হওয়ার সময় ঢিলেঢালা আরামদায়ক কাপড়, হালকা রঙের পোশাক পরুন ও অতিরিক্ত সাজগোজ পরিহার করুন। একই কাপড়-চোপড় না ধুয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না। প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানীয়, রসালো খাবার (তরমুজ) ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন। সন্ধ্যার দিকে খোলা মাঠে ঘুরতে যেতে পারেন। সে সময়কার বাতাস আপনাকে আরাম দেবে। টেনশন, উদ্বেগ পরিহারকরুন, ফুরফুরে হালকা মেজাজে থাকুন ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল আবাসিক সার্জন, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। চেম্বার:ল্যাব সাইন্স ডায়াগনস্টিক লিঃ ১৫৩/১ গ্রিন রোড, ঢাকা