সরকার কি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়?- এই প্রশ্ন রেখে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাছে এমনটাই মনে হয়েছে। কিন্তু এটা বিশ্বাস করতে চাই না। তারা কি খালেদা জিয়াকে এভাবে বিনা চিকিত্সায় কারাগারের মধ্যে মেরে ফেলতে চায়? তাকে কি তারা হত্যা করতে চায়? এত দুর্বলতা কেন? নিজের প্রতি আস্থার অভাব কিসের জন্য? কারণ তারা নির্বাচনের আগের রাতে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। এই কারণে খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিত্সায় ধীরে ধীরে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা এতই খারাপ হয়েছে যে তিনি এখন বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। দেশনেত্রী এতদিন বাম হাত নাড়াতে পারতেন না, এখন ডান হাতও নাড়াতে পারছেন না। খালেদা জিয়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনসুলিন নেওয়ার পরও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এখনো তার সুগার ১৫-১৬ থাকে। দুই কাঁধে ব্যথা বেড়েছে। তিনি পা সোজা করে রাখলে বাঁকা করতে পারছেন না। তার মাসলগুলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা বারবার বলেছি তাকে উন্নত চিকিত্সা দিতে। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করছে না।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আপডেট জানানো সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের দায়িত্বে (হেফাজতে) রয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনকেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সংসদে যাওয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও দলের স্বার্থে সংসদে গিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের কাছে প্রত্যাশা করি, খালেদা জিয়ার জামিন হবে। অথচ কালও তার জামিন নিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।