জমজমাট উদ্বোধনের অপেক্ষায় বিশ্বকাপ

আইসিসি নানাভাবে বলার চেষ্টা করছে, এটা হবে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আসলেই এই দাবি সত্যি হয় কি না, সে জন্য একটু অপেক্ষা করার বিকল্প নেই। তবে আইসিসির তোড়জোড়ের অভাব নেই। এই বিপুল তোড়জোড় নিয়েই ২৯ মে, বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন লন্ডনে আয়োজিত হতে যাচ্ছে—দ্য ওপেনিং পার্টি। আর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান   দিয়েই পর্দা উঠবে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ১০টি শহরে ১১টি ভেন্যুতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। আর ক্রিকেটের এই সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনের আগের দিন লন্ডনের ‘দ্য মল’-এ আয়োজিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাকিংহাম প্যালেসকে পেছনে রেখে লন্ডনের বড় বড় সব অনুষ্ঠান আয়োজনের উন্মুক্ত জায়গা এই মল। এখানেই জমজমাট একটা অনুষ্ঠান করতে চায় আইসিসি।

অনুষ্ঠানে কারা পারফরম করবেন, কী কী আয়োজন থাকছে; সেগুলো আইসিসি গোপন রাখতে চাইছে। তবে আইসিসিই দাবি করেছে, বিশ্বের নামকরা সব তারকারা পারফরম করবেন এই অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে থাকবে নানা ধরনের ডিজিটাল ও সাধারণ প্রদর্শনী। আইসিসি বলছে, এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুধু ক্রিকেট দর্শকের জন্য নয়। যারা ক্রিকেট দেখেন না, সেসব দর্শককেও টেনে নেবে এই অনুষ্ঠান।

ব্রিটিশ সময় দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। তবে টিভি সম্প্রচার হবে ৫টা থেকে ৬টা; এক ঘণ্টা। মানে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা থেকে টেলিভিশনে দেখা যাবে এই অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বে আইসিসির বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারীরা প্রচার করবে অনুষ্ঠানটি। এ ছাড়া সরাসরি ‘দ্য মল’-এ অনুষ্ঠান দেখবেন চার হাজার দর্শক।

সারা পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আবেদনের ভেতর থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে চার হাজার দর্শককে। এই দর্শকরা ইতিমধ্যে হাতে পেয়ে গেছেন তাদের টিকিট। সেই টিকিট দেখিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশ করতে হবে দর্শকদের।

ইতোমধ্যে আইসিসি দর্শকের করণীয় সম্পর্কে একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে অক্ষম দর্শকের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থলে খাবার বা পানীয় বিক্রি করা হবে না। তবে কাচের বোতল ছাড়া পানীয় ও খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শকরা। অনুষ্ঠান স্থলে বসার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না; সকলকে দাড়িয়ে অনুষ্ঠান দেখতে হবে।

তবে আয়োজকদের একটু শঙ্কায় রেখেছে বৃষ্টি। এই সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা লন্ডনে থাকেই। এর আগে ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল বৃষ্টির দৌরাত্ম্যে।

তবে এসব নেতিবাচক ব্যাপার নয়, আইসিসি ইতিবাচক দিক নিয়েই থাকতে চায়। এবারের বিশ্বকাপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিভ এলওয়ার্দি বলেছেন, ‘আমাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সুবাসটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে যে, কেন এই টুর্নামেন্টা একটা বিশেষ কিছু। এই অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা। বাকিংহাম প্যালেসকে পেছনে রেখে দ্য মল-এ হবে অনুষ্ঠান। দ্য মল হলো যুক্তরাজ্যের যে কোনো বৃহত্ অনুষ্ঠানের এক প্রতিশব্দ। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ, ক্রিকেট ও খেলাধুলার প্রাণের এক আয়োজন।’

সেই আয়োজনের অপেক্ষায় আছে বিশ্ব।