পলাতক জঙ্গিরা দুই মাসেও ধরা পড়েনি

দুই মাস চলে গেলেও ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গির সন্ধান মেলেনি। তারা দেশে আছে, না দেশ ত্যাগ করেছে- সে ব্যাপারে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৬ জঙ্গির রিমান্ড মেয়াদ দফায় দফায় বাড়লেও তাদের কাছ থেকেও মিলছে না নতুন কোন তথ্য। দিন যতই যাচ্ছে ততই তারা বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিপাকে ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ময়মনসিংহ আদালতে নেয়ার পথে ছিনিয়ে নেয়া হয় জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রকিবুল হাসান, সালেহীন ওরফে সানি ও বোমা মিজানকে। এসময় প্রিজনভ্যানের গতিরোধ করতে গুলি করলে নিহত হন পুলিশ কনস্টেবল আতিক। আর ছিনতাইয়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ধরা পড়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন রকিবুল। কিন্তু বাকি দুই জনের খোঁজ আজো পাওয়া যায়নি। প্রিজনভ্যান থেকে পালানো ওই দুই জঙ্গি সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ ডিবির ইন্সপেক্টর মাজেদুর রহমান বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও হাল ছাড়েনি পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ ছিনতাই অভিযানে সরাসরি অংশ গ্রহণকারী জঙ্গি জাকারিয়া, রাসেলসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। যাদের মধ্যে দুইজন জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় অর্থদাতা। আটকদের মধ্যে জাকারিয়া ওরফে হিমেল, মো. রাসেল, রাহাত, আজমীর, আল আমিন, ও জিতুকে কয়েক দফায় রিমান্ডে (গড়ে ৫০ দিন) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ এ ৬ জঙ্গিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ওই ৬ জঙ্গিকে আবারও রিমান্ডে আনা হয়েছে। তবে বার বার রিমান্ডে আনা হলেও তারা ঘুরে ফিরে একই কথা বলার চেষ্টা করছে। তারা কোন কোন ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করছে। এরা প্রিজনভ্যান থেকে পরিকল্পিতভাবে আসামি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও পলাতক জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে বার বার একই কথা বলছে। পলাতক জঙ্গিদের সম্পর্কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. রহমতউল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, তাদের গ্রেফতারে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে তাদের ব্যাপারে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, জঙ্গিদের অর্থের যোগানদাতা গ্রেফতার হওয়ায় জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ও কর্মকাণ্ড অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। গ্রেফতার আতংকে যে যার মত আত্মগোপনে রয়েছে। তবে পলাতকদের গ্রেফতারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন জেলা পুলিশের সহায়তা নিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। প্রসঙ্গত, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ত্রিশাল, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, বাসাইল, ভালুকা এবং রাজধানীর রমনা ও সবুজবাগ থানায় মোট সাতটি মামলা করা হয়। ত্রিশাল থানায় দায়ের করা দুটি মামলা তদন্ত করছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা বিভাগ।