গল্প নয় সত্যি
জিমনেসিয়াম নয়, পরিশ্রম বাড়ান
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২০:২৮
একটু মুটিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অনেকেই জিমনেসিয়ামে বেশ ঘাম ঝরান। উদ্দেশ্য বাড়তি ক্যালরি পুড়িয়ে শরীরটাকে ফিট রাখা। অথচ রাজ্যের অর্থ ব্যয় করে জিমনেশিয়ামে ঘাম ঝরানোর চাইতে মামুলি দশ মিনিটের কায়িক শ্রমও যে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এই সত্যটা অনেকেই মানতে চান না। এদের অনেকেই আবার ভাবেন হাজারো ব্যস্ততার ফাঁকে কায়িক শ্রমের সুযোগটাই বা কোথায়! আর এ বাস্তবতায় সম্প্রতি একদল গবেষক বেশ স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাস স্টপে হেঁটে যাওয়া, ঘর পরিষ্কার করা, বাগানের ঘাস কাটা কিংবা মাছ ধরার মতো সামান্য কাজও হূদরোগের ঝুঁকি কমায়, ওজন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং এসব কাজ মাত্র দশ মিনিট ধরে করলেও যে সুফল মেলে তা জিমে কয়েক ঘণ্টা ব্যায়াম করার চাইতে বেশি কার্যকর। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিচালিত এই জরিপে ২১০৯ জনের জীবনাচরণ ও ওজনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া এই ব্যক্তিদের গড় বয়স ছিল ৪৭ বছর। আর গবেষণার জন্য যাদের বেছে নেওয়া হয় তাদের প্রত্যেকেরই প্রথম দিকে শরীরের ওজন ছিল তাদের উচ্চতার সাথে মানানসই ওজনের চেয়ে বেশি। গবেষণার জন্য এই ব্যক্তিদের দেহে শরীরের গতি পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র (অ্যাক্সিলেরোমিটার) লাগিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট ব্যায়াম করেছেন কিংবা ঘরে কাজ করেছেন তাদের ওজন উল্লে¬খযোগ্যভাবে কমেছে এবং এদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও জিমনেশিয়ামে ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের চাইতে তুলনামূলক অধিক নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ ছাড়া কোনো কিছু না করার চাইতে নিয়মিতভাবে অল্প সময় ব্যায়াম করাও যে ওজন ও হূদরোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সেটিও নতুন করে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকরা।