দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বাগত জানালো কমনওয়েলথ
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২১
কমনওয়েলথ বলেছে, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সঠিক মনের চিন্তা’ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এখানকার উত্তাল রাজনীতির বদলে বর্তমানে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মাকে উদ্ধৃত করে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটা দেখতে ভালো যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল।’ বৃটেন সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গত শুক্রবার লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্ করলে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় শর্মা আরো বলেন, সামপ্রতিক স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের পর সকল রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সঠিক মনের চিন্তা’ শুরু হয়েছে।
বৃটেনে দু’দিনের সফরে থাকা মাহমুদ আলী কমলেশ শর্মার সঙ্গে বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং সকল বড় দলের অংশগ্রহণে সমপ্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে তাকে অবহিত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কমনওয়েলথ মহাসচিব এসব অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মি. শর্মা বলেন, ‘কমনওয়েলথ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও বিভক্তি দেখতে চায় না।’
তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক নিয়ম-নীতি অনুযায়ী মূল আইনের বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন লর্ড সভার মুখপাত্র ও সরকারি হুইপ লর্ড তারিখ আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করে লর্ড আহমদ ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার দৃঢ় সংকল্প ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতির বিষয়ে আগ্রহ দেখান।
২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে আলাপকালে লর্ড আহমদ বাংলাদেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখতে বৃটেনের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবের যথাযথ পর্যবেক্ষণের বিষয়ে লর্ডসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সশস্ত্র সংঘর্ষের সময়কার যৌন হয়রানি বন্ধে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বৃটিশ সরকারের ‘ডিক্লারেশন ফর কমিটমেন্ট’-এ সমপ্রতি বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে লর্ড সভার কনজারভেটিভ মুখপাত্রকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ সময় বৃটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন।