খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রযুক্তির জন্য নিবেদিত ক্লাব

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের সর্ববৃহত্ পেশাগত সংগঠন আইট্রিপলই। এ সংগঠন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা, উত্কর্ষ সাধন এবং নিজেদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এ সংগঠনের স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। ক্লাবের সদস্যদের প্রতিবছর নিজেদের মেধা এবং উত্কর্ষতা বিকাশে পরিচালনা করে নিয়মিত কার্যক্রম। এ ক্লাবের বর্তমান চেয়ার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমা আকতার প্রযুক্তি। আইট্রিপলই নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি রোবটিক্স এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের অ্যাপলিকেশন তৈরিতেও তার পদচারণা রয়েছে। আইট্রিপলই ক্লাবের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, আমরা সবসময় ক্লাবের সদস্যদের আপডেটেড রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা জানিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। সদস্যদের নিয়ে প্রতি দুইমাসে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম তদারক করা হয় এ প্রোগ্রামে। এ সভা শুক্রবার বা শনিবারের যেকোনো একদিন হয়ে থাকে। প্রতিবছর আমরা সেমিনার আয়োজন করি। এসব সেমিনারে ইলেকট্রিক্যাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সদস্যদের আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। গতবছর আমরা দুইটি সেমিনার আয়োজন করেছিলাম। একটি সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কিউকুয়ানকিয়াও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। আরেকটি সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এইচ রশিদ সার্কিট এবং ইলেকট্রনিক্সের একটি টপিক্সের উপর স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রেখেছিলেন। আমাদের আরেকটি আয়োজন ওয়ার্কশপ। ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আবিষ্কৃত সর্বশেষ প্রযুক্তিতে আপডেটেড রাখতে এ প্রোগ্রাম করা হয়। ওয়ার্কশপে হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়া হয়। গতবছর আমরা তিনটি ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলাম। প্রতিবছরই আমরা টেকনিক্যাল ট্যুর আয়োজন করে থাকি। যে প্রতিষ্ঠানে এ ট্যুর হয়ে থাকে, সে প্রতিষ্ঠানে কারিগরি দিকগুলো সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হয়। গতবছর আমরা দুটো টেকনিক্যাল ট্যুর আয়োজন করেছিলাম। একটি হয়েছিল বাংলাদেশের একমাত্র অপটিক্যাল ফাইবার ইন্ডাস্ট্রি খুলনার বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে এবং আরেকটি হয়েছিল খুলনা শিপইয়ার্ডে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকি। কোনো ঘোষণা থাকলে তা সদস্যদের জানিয়ে থাকি। আমাদের সদস্যরা চাইলে তাদের রিসার্চ পেপার আন্তর্জাতিক সেমিনারে পাঠ করতে পারবে। আইট্রিপলই থেকে প্রকাশিত জার্নালে রিসার্চ পেপার প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। ক্লাবে সদস্য হওয়া প্রসঙ্গে প্রযুক্তি জানায়, আমাদের সংগঠন আন্তর্জাতিক সংগঠন। সচরাচর ডিসেম্বর মাসে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২৫ ডলার জমা দিয়ে সদস্য হতে পারবে। ক্লাবের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রযুক্তি বলেন, এ বছর আমরা ক্লাব থেকে আরো বেশি প্রোগ্রাম আয়োজন করতে চাই। তিনটি টেকনিক্যাল ট্যুর আয়োজনের ইচ্ছা আছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের সাফল্য বাড়াতে চাই। নারী হওয়ার কারণে ক্লাব চালাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে প্রযুক্তি বলেন, কোনো সমস্যা হয় না। আমাদের কাজ ভাগ করা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাররা আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করে থাকেন।