বাংলাদেশের অর্জন খাটো করে দেখার অবকাশ নেই
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১১
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জাতি হিসেবে আমরা অনেককিছু অর্জন করতে পারি নি, এটি সত্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত আমরা যা অর্জন করেছি তা খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উন্নত দেশের জ্ঞান এবং প্রযুক্তি আহরণের মাধ্যমে আমাদের দেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নতি দেখে উন্নয়নশীল দেশগুলো অবাক হবে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশব্যাপী পাঁচ লাখ ‘বন্ধু চুলা’ (পরিবেশবান্ধব চুলা) স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা ‘জিআইজেড’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। এর কতগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে। আরো অনেককিছু করার আছে। আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে। তিনি বলেন, শুধু রাজধানীতেই যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে তা নয়, রাজধানীর বাইরেও উন্নয়ন হয়েছে। রাজধানীতে উড়াল সেতু, ঝুলন্ত সেতু করা হয়েছে। ঝর্ণা বসানো হয়েছে। কিন্তু এসব খাতে যে বরাদ্দ থাকে তার একটি অংশ গ্রামে খরচ করা হলে সেখানকার জনগণকে আর কাদায় হাঁটতে হয় না।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, একসময় দাতারা চার লেন সড়ক প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এখন আমাদের অনেক রাস্তা চার লেন হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকে যানজট দেখে বিরক্ত হলেও আমি খুশি হই। কারণ ছাত্র অবস্থায় দেখেছি বাঙালিদের মাত্র ৬-৭টি গাড়ি ছিল। এখন দেশ গাড়িতে ছেয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা হলেও বোঝা যায়।
‘বন্ধু চুলা’র প্রশংসা করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এ চুলার জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানে গ্যাস সংযোগ নেই। সেখানকার মানুষ এ চুলায় কাঠ বা গোবর ব্যবহার করে। তাদের জন্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে না পারলে আসল উদ্দেশ্য সাধন হবে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ রক্ষায় সবধরনের ব্যবস্থা নেবে। ইটের ভাটায় যাতে গাছ পোড়ানো না হয়, সেজন্য কয়লা আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাঁর মতে, কোনকিছু রাতারাতি অর্জিত হয় না। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, পরিবেশ দূষণের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ‘বন্ধু চুলা’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দাতাদের জন্য বসে না থেকে পরিবেশ রক্ষায় সরকার নিজস্ব অর্থায়নে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এগুলো চালু রাখতে হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. আলব্রেখট কোনসে বলেন, সনাতনী চুলার ধোঁয়া মা ও শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। ইতিমধ্যে গোটা বাংলাদেশে পাঁচ লাখ ‘বন্ধু চুলা’ সরবরাহ করা হয়েছে। এটিকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন হওয়া উচিত জনগণের জন্য, সরকারের জন্য নয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দিদারুল আহসান, প্রকল্প পরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমী, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান প্রমুখ।