ফার্নেস অয়েল আমদানিতে বিপিসি-পিডিবি ভিন্নমত

রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। বিউবো ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মালিকদের সুযোগ দেয়ার পক্ষে। অপরদিকে বিপিসির মতে পেট্রোলিয়াম এ্যাক্ট ১৯৭৪ এবং অর্ডিন্যান্স ও বিধিমালা ১৯৭৬ অনুযায়ী পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি বিপণন বিপিসির ওপর ন্যস্ত। ফার্নেস অয়েল আমদানি হাতছাড়া হলে বিশাল অংকের আর্থিক লাভ থেকে বঞ্চিত হবে বিপিসি। তাদের হিসেবে গত ২০১৩ সালে বিপিসি ফার্নেস অয়েল খাতে ১৬০ কোটি টাকা লাভ করেছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল বিপণনে বিপিসি ২ টাকা করে লাভ করে থাকে। বিউবোর পক্ষ থেকে বিপিসিকে দেয়া পত্রে বলা হয়, বিপিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে বিউবোকে ৬০ টাকা ৯৫ পয়সা প্রদান করতে হয়। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে আমদানিকৃত প্রতি লিটারের জন্য ৫৪ টাকা ৭৮ পয়সা প্রদান করতে হয়; কিন্তু বিপিসির মতে বেসরকারি খাতের আমদানি মূল্য বিপিসির আমদানি মূল্যের কম হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ কস্ট অব ক্যাপিটাল সংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিপিসি বেসরকারি খাতের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। এদিকে সরকার বেসরকারি পর্যায়ে ফার্নেস অয়েল আমদানিকারকদের আমদানি ব্যয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের মোট অংকের ওপর শতকরা ৯ ভাগ হারে সার্ভিস চার্জ প্রদান করে। আবার আমদানিকৃত প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের জন্য বিপিসিকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৭ টাকা রাজস্ব প্রদান করতে হয়; কিন্তু পাওয়ার প্ল্যান্ট মালিকদের আমদানির ক্ষেত্রে তা দিতে হয় না। সম্প্রতি কয়েকটি বিদ্যুত্ কেন্দ মালিক নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির আবেদন করলে বিপিসির পক্ষ থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত পত্রে বিপিসি তাদের অবস্থান তুলে ধরে। বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ফার্নেস অয়েলের প্রকৃত ব্যয় খতিয়ে দেখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে বিপিসি ও বিউবোর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা যেতে পারে। অনেক বিদ্যুত্ কেন্দ মালিক বিপিসি কর্তৃক নিরবচ্ছিন্নভাবে ফার্নেস অয়েল সরবরাহের নিশ্চয়তার জন্য পারফরমেন্স গ্যারান্ট্রি চেয়েছেন। তাদের মতে কখনো ফার্নেস অয়েলের অভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যাহত হলে বিউবোকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার শর্ত রয়েছে। তাই তারাও বিপিসির নিকট এ নিশ্চয়তা চাচ্ছেন। অবশ্য বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্টকে তারা সফলভাবে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ করে আসছে। তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা কাউকে শর্ত সাপেক্ষে সরবরাহ প্রদান করে না। বিপিসির মতে- ২০০৯-২০১০ সালে সরকার ফার্নেস অয়েলভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু করলে বিপিসি কর্তৃক ফার্নেস অয়েল আমদানি করা এবং সরবরাহ করতে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনকি লোকসানে পড়তে হয়। পরবর্তীতে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করে বিপিসি অবকাঠামো গড়ে তোলে। বর্তমানে বিপিসির ১২ লাখ ফার্নেস অয়েল আমদানি ও সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে ফার্নেস অয়েল আমদানি বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দিলে বিপুল অর্থে নির্মিত অবকাঠামো অব্যবহূত থাকবে এবং সরকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বিপিসি বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুইটি বিকল্প সুপারিশও জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। তাতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় ফার্নেস অয়েলের শতকরা ৫০ ভাগ মালিকে আমদানির সুযোগ দেয়া যেতে পারে। বাকি ৫০ ভাগ বিপিসি কর্তৃক আমদানি করে সরবরাহ করতে পারে। আবার কতিপয় শর্তসাপেক্ষে যে কোন পরিমাণ ফার্নেস অয়েল আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে আনার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। বিপিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে কয়েকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট মালিককে আংশিক পরিমাণ ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, বেসরকারি পর্যায়ে ফার্নেস অয়েল আমদানি করার ক্ষেত্রে বিপিসির লাভ-ক্ষতির বিস্তারিত সরকারকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ফার্নেস অয়েল বিপণনে বিপিসি লাভে রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি সরকার দিয়েছে। ৬/৭টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন এখনো জমা আছে।