জিএসপি স্থগিত শাস্তি নয়
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২০
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানি বলেছেন, জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা বাংলাদেশকে দণ্ড বা শাস্তি দেয়ার জন্য নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে শক্ত ইঙ্গিত দেয়া যেন ভবন সুরক্ষা ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিক অধিকার রক্ষা করা হয়।
গতকাল রবিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, আমেরিকান চেম্বারের সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম, পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমই’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইকেল ডিলানি বলেন, বাংলাদেশ আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হল চাবিকাঠি।
টিকফা পরিষদের প্রথম বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোমবার টিকফা শ্রম বিষয়ক কমিটি ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক টিকফা কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে শ্রমিক ও নারীদের সুরক্ষায় কাজ করা হবে। মাইকেল ডিলানি বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীনের ঘটনায় যে বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে তা হলো নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রদানে ব্যর্থতা, কারখানা ভবনের মান ও অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং দাবি আদায়ে শ্রমিকদের সোচ্চার হওয়ার অক্ষমতা। এ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি জিএসপি স্থগিতের সময় তা পুনরুদ্ধারে যে কর্মপরিকল্পনা দেয়া হয়েছে সেগুলোও পালন করতে হবে। কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শ্রমিক, অগ্নি নিরাপত্তা ও ভবনের মানোন্নয়ন, শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে একত্রিত হওয়া এবং শ্রমিক আইন পুনর্গঠন করা। মাইকেল ডিলানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখন জিএসপি পুনরুদ্ধারে দেয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনেক কাজ করছে। তবে এ কাজগুলো শেষ করতে হবে এবং বাকি কাজগুলোও শুরু করতে হবে।
ড্যান মজীনা বলেন, অনেকদিন অপেক্ষার পর অবশেষে টিকফা চুক্তি হয়েছে। এটা বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৬শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা ২০০৯ সালের তুলনায় ৫০ ভাগ বেশি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ শতাংশ।
আতিকুল ইসলাম বলেন, নিঃসন্দেহে রানা প্লাজা ও তাজরীনের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ট্র্যাজেডিক ঘটনা। এ কারণে বাংলাদেশের বস্ত্রখাতে নানামুখী চাপ শুরু হয়েছে। এ চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পারলে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। সুতরাং ক্রেতা দেশগুলোকে নারীদের কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নের উত্স হিসেবে পোশাক খাতের অবদানের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।