উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত রেল স্টেশন হচ্ছে ১৬টি

উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত রুটে ১৬টি স্টেশন স্থাপন, একজন নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে ‘ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ’ গঠন এবং ভূমি অধিগ্রহণের বিশেষ বিধান রেখে ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৪’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মোশাররফ হোসাইন ভুঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) সরকারি ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড দিয়ে পরিচালিত হবে এবং এর দেখভাল করবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বিশেষ বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের যে বিধান রাখা হয়েছিল, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এ বিধান রাখা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনের আওতায় বৃহত্তর ঢাকার ছয়টি জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাত্ ওই সব জেলায়ও যদি এ ধরনের প্রকল্প নেয়া হয় তখন সেগুলো এই আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে অন্য কোনো কোম্পানি (সরকারি ছাড়া) মেট্রোরেল পরিচালনা করতে চাইলে লাইসেন্স নিতে হবে। ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ লাইসেন্স দেবে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি হলে তাতে ফি দিতে হবে না। তিনি বলেন, এ আইনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প চালালে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করলে এক বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং বিনা টিকেটে ভ্রমণ ও দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় মেট্রোরেলের রুট রাখা হয়েছে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এর মধ্যে ১৬টি স্টেশন থাকবে। এই ১৬টি স্টেশন হবে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর-১০, কাজিপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও মোড়, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম ও সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক। মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সামরিক শাসনামলে প্রণীত এবং পরবর্তীতে আদালতের রায়ে বাতিল ঘোষিত দু’টি অধ্যাদেশকে পুনরায় আইনে রূপান্তরের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ দুটি হলো ‘সরকারি যানবাহন (ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং ‘ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ আইন। এছাড়া মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ‘অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে মিশর সরকারও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ উত্সাহিত করা, বেসরকারি খাতের সহায়তা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ আদান-প্রদান, তথ্য বিনিময় ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি বিনিময় সহজতর হবে।