কংগ্রেসের সমর্থনে ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’ সরকার চায় বিজেপি-বিরোধীরা
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৫
ভারতের লোকসভা নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়লাভ করতে পারে। তবে এই জয় নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে। ফলে বিজেপি বিরোধীরা বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সমন্বয়ে একটি ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’ গঠন করতে চায় এবং এই ফ্রন্ট সরকার গঠনে কংগ্রেসের সমর্থন আশা করছে এবং এ নিয়ে আলোচনাও চলছে। তৃতীয় ফ্রন্ট কোনোভাবেই চাইবে না বিজেপি’র নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হোক।
তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে কোনো নেতাকে জোরালোভাবে চেষ্টা করতে দেখা যায়নি। ২০০৯ সালের নির্বাচনে অ-বিজেপি এবং অ-কংগ্রেস দলগুলো এবং সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) বাইরের দলগুলো ১৫০ টি আসনে জয় পেয়েছিল। যদি এই নির্বাচনে কংগ্রেস ১০০টি এবং কংগ্রেস ও বিজেপির বাইরের দলগুলো ১৫০ আসন পায় তাহলে সব মিলিয়ে ২৭০ আসন পেতে পারে। তবে যদি নতুন রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টি (এএপি) এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়াসর (ওয়াইএসআর) কংগ্রেস কিছু আসন পায় তাহলে ৫৪৩ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ২৭২ টি আসন পাওয়া সম্ভব হবে। ২০০৯ সালে এই দলগুলো ছিল না।
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ইউপিএ গঠন করতে সিপিআই-এম’র প্রকাশ কারাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু সিপিআই-এম’র শক্তি এখন আগের মতো নেই। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি চাচ্ছেন, সারা ভারতে অ-বিজেপি দল নিয়ে একটি জোট গঠন করতে। কিন্তু তিনি এখনো জাতীয় নেতা হতে পারেননি। তাছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই-এম একই জোটে থাকতে চাইবে না। তৃণমূল কংগ্রেস এখনো এবারের নির্বাচনে তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভুত হওয়ার আশা করছে।
তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি নিজেকে বিজেপি থেকে দূরে রাখছেন। তিনি আশা করছেন, তার দল এআইএডিএমকে রাজ্যের ৩৯ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পাবে। দলটি আসনের দিক থেকে কংগ্রেসের পরের দল হিসেবে আসার আশা করছে। ফলে জয়ললিতা তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আর জয়ললিতা যদি প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে বিজেপি’র সঙ্গে ওই রাজ্যের যে ছোট দলগুলো আছে তাদের এআইএডিএমকে সমর্থন দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। মমতা ব্যানার্জিও জয়ললিতাকে সমর্থন দিতে পারেন। তবে তৃতীয় ফ্রন্ট কোনোভাবেই যাতে মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন সেই চেষ্টাটিই করবে। উত্তরপ্রদেশের মুলায়েম সিং যাদব, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার এবং ওডিসার মুখ্যমন্ত্রী নাভিন পাটনায়েক তৃতীয় ফ্রন্টে যোগ দিতে পারেন।
১৯৯০ সালের সরকারে চন্দ্র শেখরকে এবং ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সালের সরকারে যেভাবে এইচ.ডি দেবগৌড়া এবং আই.কে গুজরালকে প্রধানমন্ত্রী পদে কংগ্রেস সমর্থন দিয়েছিলেন এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তবে তৃতীয় ফ্রন্টের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে সেটা ভারতের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভাল হবে না। এখানে পুজিঁবাদী এবং সমাজতন্ত্রবাদীরা একাকার হবেন। ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। মমতা ব্যানার্জি, মুলায়েম সিং যাদব এবং নিতিশ কুমারের মতো নেতারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। আর নাভিন পাটনায়েক, শারদ পাওয়ার এবং জয়ললিতারা অর্থনীতির কেন্দ্রীকরণে বিশ্বাস করেন। তাছাড়া পররাষ্ট্রনীতিতে জয়ললিতা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকাই রাখবেন। তৃতীয় ফ্রন্ট যদি স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে না পারেন তাহলে ২০১৬ সালে আরেকটি নির্বাচন হতে পারে। তবে এটা যে কেবল তৃতীয় ফ্রন্টের ক্ষেত্রেই হতে পারে তা নয়। বিজেপি সরকার গঠন করলেও দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন হতে পারে। কারন বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাবে না।