ইস্কুল ঘরটি ছিল বৈরাগ বাড়ির ভিটাতে

ইস্কুল ঘরটি ছিল বৈরাগ বাড়ির ভিটাতে। টিনের চাল, টিনের বেড়া, ডোয়া আগলা, বালু মাটি, খড়ির পার্টিশন। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে বৈশাখী ঝড়ে টিনের চাল উড়ে যেতো। পেলা দিয়েও ঘর খাড়া রাখা যেতো না। ঝড়ের দিনে আমাদের খুব মজা হতো। ইস্কুল ভাঙ্গা। আমাদের আনন্দে মন রাঙ্গা। আলম তালুকদার, শিশু সাহিত্যিক  আমার বিশকুলের সদস্যরা যে ইস্কুলের ছাত্রছাত্রী ছিলো আমিও সেই ইস্কুলের ছাত্র ছিলাম। আমার প্রিয় ইস্কুলের নাম হলো গালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটা দাদাদের আমলে প্রতিষ্ঠিত। ১৯১২ সালে এর অফিসিয়াল যাত্রা। কাচারি ঘরে একজন শিক্ষকের টোল ছিল দীর্ঘ ১২ বছর। কারো মাধ্যমে ইস্কুলে গিয়েছিলাম কিনা মনে নাই। তবে যেহেতু গ্রামের ইস্কুল বড় ভাইয়ের সাথে, চাচাতো ভাই-বোনদের সাথেই হয়তো ইস্কুলে গিয়ে থাকবো। ইস্কুল ঘরটি ছিল বৈরাগ বাড়ির ভিটাতে। টিনের চাল, টিনের বেড়া, ডোয়া আগলা, বালু মাটি, খড়ির পার্টিশন। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে বৈশাখী ঝড়ে টিনের চাল উড়ে যেতো। পেলা দিয়েও ঘর খাড়া রাখা যেত না। ঝড়ের দিনে আমাদের খুব মজা হতো। ইস্কুল ভাঙ্গা। আমাদের আনন্দে মন রাঙ্গা। ইস্কুল ঘরের আশে পাশে আম গাছ ছিল। মাঠের এক কোনায় তেঁতুল গাছ ছিল। আম কোনো দিন বড় হতে পারেনি। কচি কাঁচা অবস্থায় বংশ ধ্বংস করা হতো। খেলাধূলা হতো অনেক রকমের, হা-ডু-ডু, দাড়িয়া বান্দা, ছিকুত কুত, চোর পুলিশ, তিন গুটি, গোল্লা ছুট ইত্যাদি। হা-ডু-ডু খেলতে খেলতে হাত পা মচকে যেত। তারপর ভবিবল খেলা হতো। জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল খেলা প্রায় দৈনিক। তাছাড়া রোজার দিনে মার্বেল খেলা এবং লাটিম খেলা হতো দারুন রকমের। ঝিনাই দিয়ে আম ছিলানো হতো। পাকা আম খেতে খেতে আমের কষে হাতে ঘা হয়ে যেতো। আহারে মজার ছোটবেলা। মনে হলেই ছোট হতে থাকি। নাড়াচারা করলেই কোহাতে থাকি। পড়াশুনা ছিল তবে অতটা চাপের নয় যতটা বর্তমানে দেখা যায়। হালকা মেজাজ রিলাক্স সে লেখাপড়া। জোরে জোরে রিডিং পড়তে হতো। হাতের লেখা জমা না দিলে পিটনা খেতে হতো অবশ্যি। সকালে পান্তা আর ইস্কুলে ডান্ডা। সব ঠান্ডা এই আর কী? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে কজন শিক্ষক ছিলেন আমার কাছে সবাই একেকটা বৈশিষ্ট্য নিয়ে উজ্জল হয়ে আছেন। যেমন বুড়া মাস্টার, ফয়েজ মাস্টার, ফোর মাস্টার, মৌলভী মাস্টার। ফোর মাস্টার আর ফয়েজ মাস্টার খুব রাগি ছিলেন কারণে অকারণে পিটনা দিতেন। বেত ছাড়া দুজনকে কল্পনাই করা যায় না। মুখস্থ করো, তারপর ছুটি হু হু। বেটারা পইছটা কী? খালি কিলুমিলু ঐসব ইসকুল আসলে আনন্দের এবং ভয়ের ছিল। পড়া শিখে গেলে পুরোটাই আনন্দ, না পড়া শিখলে ভয় আর ভয়। বাবা মার চাপ কোন জিনিস আমরা শৈশবে টের পাইনি। মাঝে মাঝে গৃহবন্দী হতে হতো। তবে পড়ার জন্য নয় দুষ্টামির জন্য। প্রতিদিন বড়ড়া নাটকের মহড়া দিত এবং নাটক মঞ্চস্থ হতো। আমরাও নাটক করেছি। ভলিবল প্রতিযোগিতা নিয়মিত ছিল। পড়া এবং খেলার সাথীরা প্রায় সবাই বর্তমান। মেয়েরা পাকা গিন্নী হয়েছে। তারা দাদী নানী হয়ে গেছে। ছেলেরা যে যার ব্যবসায় জড়িত। তবে আমাদের ব্যাচটাই ভাগ্যবান কারণ এই ব্যাচ হতে কেউ ডাক্তার, কেউ সাংবাদিক, কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউ মাস্টারী, কেউ কেউ কবি, কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধা