কবিগুরুর ওরা

শহর ছেড়ে গেলাম সেদিন দূরের সবুজ গাঁয়ে— আমায় দেখে একটা ছেলে আসলো আদুল পায়ে। গেঞ্জি গায়ে, চশমা চোখে, ফর্সা বরণ গা— বললো, ‘আমায় সবাই চেনে, আপনি চেনেন না?’ বললো, ‘আমি গাছ লাগিয়ে ফলফলারি ফলাই— আমি তো এই গাঁয়ের ছেলে কবিগুরুর বলাই’। শিলাইদহ পেরিয়ে গেলাম পদ্মাগাঙের পারে- ক’জন ছেলে হল্লা করে খেলছে নদীর ধারে। কারোর হাতে গুলতি-নাটাই, কারোর হাতে ঘুড়ি তাদের মাঝে একটা ছেলে ঠেলছে গাছের গুঁড়ি। চিনতে পেরে প্রশ্ন করি, তুমি কি ভাই ফটিক? বললো হেসে, ‘আপনি আমার নাম বলেছেন সঠিক’। এরপরে যাই পতিসরে, সেই গাঁয়ের এক মেয়ে— কান্না চোখে দাঁড়িয়ে আছে আমার দিকে চেয়ে। কী মায়াবী মুখখানা তার, এগিয়ে গেলাম কাছে, প্রশ্ন করি, ‘কিসের এমন দুঃখ তোমার আছে?’ বললো মেয়ে, ‘নয়তো দুখী কেউ যে আমার মতন— আমি তো সেই কবিগুরুর গল্পকথার রতন’। পতিসরের পাশটি ঘেঁষে শাজাদপুরে আসি— আউশক্ষেতের আলের ওপর কাঁদছে কোন এক চাষি। এগিয়ে গিয়ে শুধোই তাকে, ‘কাঁদছো কেন তুমি’— কে নিয়েছে তোমার ভিটে— মাথা গোঁজার ভূমি?’ আমার কথায় ক্ষুব্ধ চোখে বললো, ‘সাহেব চুপেন— আমি তো সেই কবিগুরুর ভাগ্যহত উপেন!’