রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
নাটক শাণিত হচ্ছে
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪১
২৫ নভেম্বর উনিশশত একাশি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরী উত্তর দিকের খোলা বারান্দা। সেখানে কিছু তরুণের জটলা। তাদের সবার চোখে-মুখে চিন্তা, উত্তেজনা। চিন্তার কোরাসে ধ্বনিত হচ্ছিল একটাই কথা নাটক, নাটক, নাটক। অবশেষে সবার স্বপ্নকে বুকে নিয়ে রচিত হলো একটি সুর, একটি স্বপ্ন, একটি নাম “সমকাল”। অনেক নামের ভিড়ে এই নামের মাঝে খুঁজে পেয়েছিল স্বপ্ন পুরোনের ঠিকানা। সেই থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও স্বাধীনতার শক্তিকে লালন করে পথচলা শুরু হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যসংগঠন ‘সমকাল নাট্যচক্রের’। আর তাদের স্লোগান ছিল ‘নাটক শাণিত হচ্ছে শোষকেরা সাবধান’। এই দীর্ঘ পথচলায় সবুজ মতিহার চত্বরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয়েছে। কখনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির নগ্ন থাবা, আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রোষানল। কিন্তু সমকালের উদ্দেশ্য তো একটাই, তারা নাটক করবে। সেই নাটক, যে নাটক তুলে ধরা হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চালচিত্র। যারা ১৬ কোটি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে, তাদের উপর শত বাধা-বিপত্তি আসলেও কি থেমে থাকে? এইজন্যই শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজকে এই নাট্যসংগঠনটি মহিরুহ আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ ‘সমকাল নাট্যচক্র’ নামের সেদিনের মোস্তাগিসুর রহমান বাবু, বাবলু, বাচ্চু, পান্ডেদা ও নিরো দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সেই শিশুটি আজকে ছন্দময় গতি নিয়ে নানা সুরের বর্ণালীতে অবগাহন করে আরো বিকশিত হয়েছে।
যে প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক পরিবেশে সমকালের জন্ম, সেই অবস্থান আজও এই সময়ে ধরে রাখতে সমার্থ হয়েছে ‘সমকাল’ তার ক্রিয়াকর্মের মধ্যে দিয়ে। জীবনের রং পাল্টেছে, তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি ঘটেছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। শিল্প-সংস্কৃতির মাঝেও এসেছে পরিবর্তন। এরই মাঝে সমকাল তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাইতো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আজও দীপ্ত উচ্চারণ ‘নাটক শাণিত হচ্ছে শোষকেরা সবধান’। বর্তমানে এই সংগঠনটি সদস্য প্রায় ৪০ জনের মত। সমকালের অবদান শুধু রাজশাহী নয়, তারা জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারাই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পথনাটক করে। এ পর্যন্ত সমকাল নাট্যচক্র মোট মঞ্চায়িত নাটকের সংখ্যা ৬৯টি এবং নাটকের মঞ্চায়নের সংখ্যা ৫৪৭টি।