প্রেসিডেন্টকে ‘পতিতা’ বলায় উত্তরের নিন্দায় দ. কোরিয়া
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪২
উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইকে ‘পতিতা’ বলায় সতর্কতা জানিয়েছে সিউল। এদিকে, বিতর্কিত পশ্চিম সমুদ্র সীমান্তে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তাজা গোলার মহড়া শুরু করেছে উত্তর পিয়ংইয়ং।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার যৌনদাসীদের প্রসঙ্গ টেনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইকে রবিবার ‘সেবাদাসী’ বলে মন্তব্য করে উত্তর কোরিয়া। পাকর্কে ‘বেশ্যার দালাল’ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিলাষ চরিতার্থকারী নারী বলেও উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার শান্তিপূর্ণ পুনরেত্রীকরণ কমিটি এক বিবৃতিতে পার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলে, তিনি তার ‘প্রভাবশালী দালাল’ ওবামার মনোরঞ্জন করছেন। উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এ বিবৃতিটি।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের নিয়ে এর আগেও ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অভিযোগ সম্বলিত বিবৃতি প্রকাশ করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে পার্ককে নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত নোংরা এবং জঘন্য বলেই সমালোচিত হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিউল সোমবার পিয়ংইয়ংকে দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি সম্মান জানাতে বলেছে। ঐ চুক্তিতে পরস্পরের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করা থেকে বিরত থাকতে রাজি হয়েছিল দেশ দু’টি।
উত্তর কোরিয়ার এমন মন্তব্যের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিম ইউই-দো বলেছেন, উত্তর কোরিয়া শুধু ওই চুক্তি লঙ্ঘনই করেনি বরং ‘অকথ্য ভাষা’ ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করেছে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া সফরের পর উত্তর কোরিয়া এই মন্তব্যটি করলো। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ওবামা ও পার্ক একযোগে উত্তর কোরিয়াকে চতুর্থ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে পিয়ংইয়ংকে হুঁশিয়ারিও দেন।
এদিকে, বিতর্কিত আন্তঃকোরীয় পশ্চিম সমুদ্র সীমান্তের কাছে মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া পাঁচ দিনব্যাপী তাজা গোলার মহড়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে পিয়ংইয়ং দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মহড়া শুরু করলো। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কোরিয়ান উপদ্বীপের পশ্চিমে দু’টি দ্বীপের কাছে মহড়াটি হতে পারে বলে মঙ্গলবার ভোরে জানানো হয়। এরকম পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী ‘সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত’ রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন মুখপাত্র।