বাকৃবিতে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০১
সায়াদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার, সম্পূরক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ, ছাত্রী লাঞ্ছনার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়েছে। আজ বুধবারও ক্লাস বন্ধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সড়কসহ সরকারি ব্যাংক-বীমা বন্ধ করার মাধ্যমে ক্যাম্পাস অচল করার হুমকি দিয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সায়াদ হত্যার সুষ্ঠু বিচারসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অন্যদিকে ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণ করে ক্যাম্পাস সচল রাখার দাবিতে গতকাল বিকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতৃবৃন্দ।
গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অনুষদে বিক্ষিপ্তভাবে অনুষ্ঠিত ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিয়ে আসে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পশুপালন অনুষদের ফটকে তালা দিলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বাক-বিতণ্ডা হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সমীরণ কুমার সাহাকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অছাত্র ও সন্ত্রাসী বললে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিনিয়র শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অনুষদের গেটে দেওয়া তালা ভেঙ্গে ফেলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশুপালন অনুষদে শিক্ষকরা জরুরি সভা করে অনুষদে প্রক্টরিয়াল বডির অযাচিত উপস্থিতি এবং তালা ভাঙ্গার ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগ এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে টালবাহানা করছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য বলেন, ডীন কাউন্সিলের জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। মিটিং এর সিদ্ধান্ত এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।