সাগরে জেগে ওঠা ভূখণ্ড দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০১
গতকাল মঙ্গলবার বাগেরহাটে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বঙ্গোপসাগরে উঠে আসছে আরেকটি বাংলাদেশ। এর আয়াতন প্রায় ৪৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এই জেগে উঠা বিশাল ভূ-খণ্ডকে দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সরকার চেষ্টা চলাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনে বিদেশি সহায়তা গ্রহণ করা হবে।
নাসিম আলী ও ফজলুর রহমান, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) থেকে জানান, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আজ জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। দেশে ও স্থানীয়ভাবে আমরা যদি একতাবদ্ধ হই তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের দলমত, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরখালী বিসমিল্লাহ চত্বরে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিকভাবে এই সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জনগণ যে ত্যাগ ও তিতিক্ষা দেখিয়েছে তার উদ্দেশ্য ছিল সকলের ভাগ্যের পরিবর্তন। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করা। এ বিবেচনায় বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ভালভাবে বেঁচে থাকার উপায় আমাদের খুঁজতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দেশে ও সমাজে যাতে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ বজায় থাকে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নের ধারা সুসংহত হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, বিগত ৩০ বছর দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের মানুষের কল্যাণে যখন যেখানে যতটুকু সুযোগ পেয়েছি তার সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর অসীম কৃপায় বিভিন্ন সময় সরকারে থেকে সাধারণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে নিয়োজিত থেকেছি। আল্লাহ আবারও এ সুযোগ দিয়েছেন, তা ঈমানের সাথে পালন করে যেতে চাই। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিবাদ-বিভেদ দূরে রেখে আপনারা একতাবদ্ধ থাকবেন। যাতে আমাদের এ অবহেলিত অঞ্চলে আমরা আপনাদের উন্নয়নে আরো কাজ করতে পারি।
উপজেলার নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চরখালী এলাকায় ভাঙ্গনকবলিত কচানদী সংরক্ষণ কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সুধী সমাবেশে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান, ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশীদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ ীয় সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান ডাকুয়া টুলু, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন তালুকদার বাবুল, সমাজসেবী আলহাজ্ব শাহজাহান তালুকদার, মেজবাহউদ্দীন আরিফ, মনিরুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, মোস্তফা জোমাদ্দার, আব্দুল মান্নান হাওলাদার, আব্দুল হাই, মতিউর রহমান প্রমুখ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহাদাত হোসেন, ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ড পিরোজপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী উজ্জ্বল সেন, বেড়ীবাঁধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোম্পানির প্রতিনিধি কৃষ্ণকান্ত কর্মকার প্রমুখ।
সুধী সমাবেশের আগে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গৃহীত কচানদী সংরক্ষণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মোনাজাত করেন। এরপর তিনি ভান্ডারিয়ার তাফসীর ময়দানে আখেরি মোনাজাতে শরীক হন। বিকালে ভান্ডারিয়ার কলেমা চত্বরে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রবীণ শিক্ষানুরাগী নূরুল হক জোমাদ্দারের নামাজে জানাজায় অংশ নেন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা প্রায় ৪৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বিশাল ভূ-খণ্ডকে দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনে বিদেশি সহায়তা গ্রহণ করা হবে। আর সুন্দরবন উপকূলে জেগে ওঠা চরে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বনায়ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুন্দরবনসহ সারাদেশের ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুনঃখননের কাজ চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা জাতীয় পার্টির (জেপি) কর্মিসভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সুন্দরবন রক্ষায় নিয়োজিত বনরক্ষীদের ঝুঁকিভাতা দেয়া হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি ও রাজনীতিবিদসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলেই ঝুঁকির মধ্যে। কখন কাকে গুলি করে তা বলা যায় না। জেপি’র কেন্দ ীয় ভাইস চেয়ারম্যান শরিফ শফিকুল হামিদ চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মিসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন কেন্দ ্মদ, জেপি নেতা এসএম নূরুল ইসলাম, চৌধুরী হাবিবুর রহমান, সেলিম রেজা, সাদিয়া আকতার রবি, ফাতেমা ইয়াসমিন প্রমুখ। কর্মিসভায় অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামকে আহবায়ক ও এসএস সিরাজাম মনিরকে সদস্যসচিব করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট বাগেরহাট জেলা জেপি’র কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবুল সরদার ও সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সাহাসহ ক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিকালে মন্ত্রী বাগেরহাট সার্কিট হাউজে পৌঁছলে পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।