সাঈদী ও নিজামীর রায় আগামী মাসে হতে পারে

আগামী মাসে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে, যে কোন মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষণা হতে পারে জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর রায়। এই দুই নেতার রায় ঘোষণাকে কেন্দ করে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় চলছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুরসহ জামায়াত অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন জামায়াত-শিবিরের ৩ কর্মী। আগামী মাসে জামায়াতের অপর নেতা এম কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হবে। ক্রমানুযায়ী এরপর শুরু হবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ (ফাঁসি) ও গোলাম আযমের (৯০ বছর কারাদণ্ড) রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি। এদের আপিলের শুনানির পর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি হবে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি আদালতে এখন পর্যন্ত ৯টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। আর ৫টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। এই ৫টির মধ্যে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ও বিএনপি নেতা নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র জাহিদ হোসেন খোকনের বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে মামলা দুটির রায় ঘোষিত হতে পারে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতের অপর নেতা ও ব্যবসায়ী মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যুক্তিতর্কের শুনানি চলছে। জামায়াত নেতা আব্দুস সোবহান, এটিএম আজহার ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মো. কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। তিন-চার মাসের মধ্যেই তিনটি মামলার বিচার কাজ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মামলা। এদিকে জামায়াত ও বিএনপির যেসব নেতার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে তাদের পেপারবুক প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ থেকে সব আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দেয়া হয়েছে। ফলে শুনানির জন্য মামলাগুলো প্রস্তুত। এখন কামারুজ্জামানের আপিলের ওপর শুনানির দিন ধার্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিলো। গত ১৫ এপ্রিল জামায়াতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এই নেতার আপিলের শুনানি শেষ হয়। এরপর আপিল বিভাগ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। বর্তমানে আপিল বিভাগের ৫ জন বিচারক এই মামলার যাবতীয় নথি রাষ্ট্র এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করছেন। পর্যালোচনা শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই বিচারকরা মিটিংয়ে বসবেন। বিচারকদের নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে আগামী মাসের যে কোন দিন রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারাদেশে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সাঈদীর ভক্তরা। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ওই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। এ প্রেক্ষাপটে এবার সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই চলছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান। অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে চলছে গোপন প্রস্তুতি। সবমিলিয়ে আগামী মাসে ফের উত্তপ্ত হতে পারে রাজপথ। জামায়াত নিষিদ্ধের আবেদন একাত্তরে গণহত্যাসহ মানবতা বিরোধী সাত অপরাধে অভিযুক্ত করে জামায়াত ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা। ওই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের আবেদন জানানো হয়েছে। গত ২৭ মার্চ দাখিল করা এই তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে প্রসিকিউশন শাখা। যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা শেষ হলে তা অভিযোগপত্র আকারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে প্রসিকিউশন। তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৯ হাজার ৫৫৭ পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী, তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে গঠিত শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী এবং জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ৪ এর ১ ও ৪ এর ২ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে। এসব সংগঠনের নীতি, নীতি-নির্ধারক ও সব নেতাকর্মী এসব অপরাধের জন্য দায়ী। প্রতিবেদনে সে সময়কার জামায়াতের সহযোগী সংগঠনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও তাদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামকে অভিযুক্ত করে নিষিদ্ধের সুপারিশও করা হয়েছে।