সুন্দরবনে র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ দস্যু নিহত
বাগেরহাট প্রতিনিধি ও মংলা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৩
পূর্ব সুন্দরবনের ভদ্রা ফরেস্ট অফিসের নিকট পশুর চ্যানেলে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধানসহ ২ বনদস্যু নিহত হয়েছে। এসময় ৬ বনদস্যুকে আটকসহ ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৭ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলোঃ ধলুবাহিনীর প্রধান ধলু ও তার ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ বাচ্চু। মঙ্গলবার বিকালের দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বাহিনী প্রধান ধলুর বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সোনাতুনিয়া গ্রামে বলে জানা গেছে।
র্যাব-৮-এর সিও লে: কর্নেল ফরিদুল আলম জানান, সুন্দরবনের ভদ্রা ফরেস্ট অফিসের নিকট পশুর চ্যানেলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩ টা থেকে পৌনে চারটা পর্যন্ত র্যাবের সাথে কুখ্যাত বনদস্যু ধলু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে বনদস্যুরা পিছু হটে বনের গহীনে পালিয়ে গেলে ওই এলাকায় তল্ল¬াশি চালিয়ে ২ বনদস্যুর লাশ ও আহত অবস্থায় ৬ বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৫টি একনলা বন্দুক, ১টি দোনলা বন্দুক, ২টি পয়েন্ট টুটু, ১টি সিক্স সুটার।
র্যাব-৮-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুর আলম মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার দিকে মঠোফোনে জানান, বনদস্যু ধলু বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল। সংবাদদাতা জানান, র্যাব-৮-এর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার গুলজার হোসেনের নেতৃত্বে জেলের ছদ্মবেশে ১৭ সদস্যের র্যাব দল সোমবার রাত থেকে ভদ্রা এলাকায় তত্পরতা শুরু করে। মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় পশুর চ্যানেলে মাছ ধরারত জেলেদের নৌকায় ছিল দস্যুদের চাঁদা আদায়ের নির্ধারিত সময়। র্যাব সদস্যরাও জেলেবেশে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। নির্ধারিত সময়ে দস্যুরা চাঁদা নিতে এলে র্যাব তাদেরকে ঘিরে ফেলে। এসময় দস্যুরা র্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। গুলি বিনিময়কালে দস্যু বাহিনীর প্রধান দুলু ও সেকেন্ড ইন কমান্ড বাচ্চু ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। র্যাব সদস্যরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে দস্যুদের নৌকা ঘিরে ফেলে। নদী থেকে দুই দস্যুর মৃতদেহ ও নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দস্যুদের ব্যবহূত একটি নৌকা জব্দ করা হয়।