নাশকতার জন্য আনা হচ্ছিল অস্ত্রের চালান
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৩
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আরেকটি একে-২২ রাইফেল, গুলি ও গোলাবারুদ্ধ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে টোকাইরা কালো ব্যাগ দেখে পুলিশকে খবর দিলে ব্যাগে তল্লাশি করে পাওয়া যায় একটি একে-২২ রাইফেল, ২টি ম্যাগজিন, ৭ রাউন্ড গুলি, ৩টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১০টি পাওয়ার জেল ও ১০টি ডেটনেটর। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম থেকে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী নূরুল ইসলাম ও শামীম ওরফে আব্দুল্লাহর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একই ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান। ঐ ঘটনায় কমলাপুর জিআরপি থানায় সাব-ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল দুই জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
কমলাপুর জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ বলেন, প্লাটফর্মে পড়ে থাকা একটি কালো ব্যাগ দেখে পুলিশকে খবর দেয় টোকাইরা। ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়ার আশঙ্কায় গ্রেফতারকৃতদের সহযোগিরা অস্ত্রবহনকারী ব্যাগটি প্ল্যাট ফর্মে ফেলে যায়।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সোমবার এই অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান কমলাপুরে আসে। এর আগে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালানের একটি অংশ ধরা পড়ে। একই চালানে এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করা হচ্ছিল। তবে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঐ চালানের দুই বাহক অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর ভয়ে হয়তো কমলাপুর রেলস্টেশনে বাহকরা অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালানের অংশ ফেলে পালিয়ে যায়। তবে ঐ চালানের আরো অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিরাপদে ঢাকায় এসেছে বলে পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, শামীম ও নূরুল ইসলাম শিবির কর্মী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পঞ্চগড় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তারা স্থানীয় শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। নাশকতার জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকা আনা হচ্ছিল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে তারা ঢাকায় এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ করছে। বিশেষ করে পাওয়ার জেল দিয়ে গাড়ি বোমা বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে- পুলিশের কাছে শামীম ও নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়।
কোর্ট রিপোর্টার জানান, বিমানবন্দরের রেলওয়ে স্টেশনে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের আরোহী দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ২টি মামলা করে পুলিশ। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে ২ মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবীর বাবুল বলেন, আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উত্স, আসামিরা কোন জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য কিনা সে সম্পর্কে তথ্য জেনে তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করতে তদন্ত কর্মকর্তার চাহিদামতে রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক। শুনানি শেষে ঢাকার এডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হক শ্যামল আসামিদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।