স্থিতিশীলতার স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় জার্মান সংসদীয় দলের

বাংলাদেশে সম্প্রতি ফিরে আসা শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান সফরত জার্মান সংসদীয় দলের। তারা গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের। এই অবস্থায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পুনরায় সংলাপ চালুর তাগিদ দিয়েছেন তারা। জার্মান পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঁচ দিনের সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিমত দেন। সংসদীয় প্রতিনিধি দলের চেয়ারপার্সন মিসেস ডাগমার জি ভরল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জার্মান সংসদের (বুন্দেসটাগ) উদ্বেগ রয়েছে। কারণ বর্তমান জাতীয় সংসদ ভোটারদের একটি ছোট অংশের দ্বারা নির্বাচিত। কয়েক কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় আমরা প্রশংসা করি। কিন্তু পুরো পাঁচ বছর এই স্থিতিশীল পরিবেশের স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা সন্দিহান। আগে হোক পরে হোক প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর ও ফলপ্রসূ সংলাপ শুরু না হলে এই স্থিতিশীলতা টিকবে না। আমরা আশাকরি এই বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেখট কনসে ও সফররত জার্মান সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ দিন সফরকালে সংসদীয় দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে আহতদেরও দেখতে যান তারা। সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন মিসেস ডাগমার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে যে আমরা উদ্বিগ্ন তা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি ও তিনি বুঝেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। সংসদীয় দলের প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ হয়েছে। কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন, কখন নির্বাচন হবে তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ। আমরা কিছুই বলব না। সরকার ও সাবেক প্রধান বিরোধী দল আবার সংলাপে বসে সব কিছু ঠিক করবে। জার্মান সংসদে বাজেট আলোচনার আগেই সংলাপ শুরু হওয়া দরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানীর সম্পর্ক অনেক পুরোনো ও ঐতিহাসিক। ১৯৭২ সাল থেকে সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৭ শতাংশই যায় জার্মানীতে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্ বাজার হল জার্মানী। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর আমরা মনেকরি জার্মানীতে এই রপ্তানি অব্যাহত থাকবে ও আরো বাড়বে। বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানীর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে সহায়তা চলতে থাকবে। তিনি আরো বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর এক বছরে গার্মেন্টস শিল্পে নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু শ্রম আইনের ক্ষেত্রে আরো করণীয় রয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকারকে কেন্দ্র করে যা করণীয় করতে হবে।