কুমিল্লায় মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে দুই যুবক রিমান্ডে

ফেসবুকে মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে গ্রেফতার দুই হিন্দু যুবককে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার অভিযোগে ৯ জনকে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন এই আদেশ দেন। মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে হোমনা থানার ওসি আসলাম সিকদার। এর আগে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গত সোমবার রাতে হোমনা থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে বাকশিতারামপুর গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ডা. হরিপদ দাসের দায়ের করা মামলার দেড় সহস াধিক ব্যক্তির মধ্যে পুলিশ গতকাল পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে আশিক, রাসেল ও কবির নামে ৩ জন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতার বাকি ৯ জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। হিন্দুপাড়ায় হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ হোমনায় মন্দির ও হিন্দু বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বাকশিতারামপুর গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক: হিন্দু বাড়ি-ঘরে হামলার পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে বাকশিতারামপুর, নাগেরচর, রামপুর, রামকৃষ্ণপুর, চান্দেরচর, শোভারামপুর ও মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকিত্তা, বাঁশকাইটসহ ১০টি গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এসব এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। গ্রামের বাসিন্দা ও হামলার পর পালিয়ে যাওয়া শ্যামপদ দাস, হরিপদ গোস্বামী, সুমতি বালা, ঊষা রানী দাস ও পরিমল দাস সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ও প্রসাশনের সহযোগিতায় তারা গত সোমবার সকালে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। বাকশিতারামপুর গ্রামের গৃহবধূ ফুলজান বিবি, আফিয়া বেগম, রায়েসা বেগমসহ অন্যরা জানান, হামলায় জড়িত ছিল না এমন লোককেও পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এই ভয়ে গ্রামে কোন পুরুষ মানুষ থাকে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রসাশনের সহায়তায় এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ কোন নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করছে না জানিয়ে হোমনা থানার ওসি আসলাম সিকদার বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে ফায়দা হাসিল করতে দেয়া হবে না। প্রকৃত অপরাধীদেরকেই পুলিশ গ্রেফতার করছে।