কমলাপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ৪ যাত্রী নিহত

রাজধানীর কমলাপুর টিটিপাড়া বস্তি এলাকায় রেল ক্রসিংয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় বলাকা পরিবহনের একটি বাস চুরমার হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করেছেন। এঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবার নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে আলামিন (২৫), সানু (২৬), ডলি (২৫), একেএম ওবাইদুর রহমান (৩২), শাহ আলম (৩৭), ইবাল (৩৮) ও মাহফুজ (২৫) ঢাকা মেডিক্যাকলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী বলাকা পরিবহনের একটি বাস সায়েদাবাদ থেকে গাজীপুরের দিকে যাচ্ছিল। রাত ১০টা দশের দিকে বাসটি টিটিপাড়া লেভেল ক্রসিং এ উল্টা দিক দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করে। এসময় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বাসের আন্তত ১৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। নিহত তিনজনের মধ্যে নাজু ঢামেকে মারা যান। এছাড়া দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আরও ২ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি কামরুল আহসান জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে বাসটি উল্টা পাশ দিয়ে লেভেল ক্রসিং পার হতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। তবে মতিঝিল জোনের ডিসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে তিন জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে নাজমুস সাবা নাজু (২২) নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। নাজুর বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নিহত নাজু দৈনিক জনকণ্ঠ- এর সাব এডিটর এবং ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের দপ্তর সম্পাদক একেএম ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী। ওবায়দুর রহমানও ওই বাসে ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা ডলি (২৪) নামের আরেক তরুণী গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা সায়েদাবাদ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে বলাকা পরিবহনের বাসে করে মগবাজার বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।