রানির বিয়ে
এবং তারপর
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৪৭
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রানি মুখার্জি অবশেষে আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বলিউডের ডাকসাইটে প্রযোজক এবং সফল চিত্রপরিচালক আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে রানির গভীর প্রণয়ের বিষয়টি এতদিন ছিল ‘ওপেন সিক্রেট’। তাদের দু’জনের বিয়ে নিয়ে গত কয়েক বছরে অনেকবার গুজব রটেছে। এ বিষয়ে মুখ ফুটে কিছু না বলে এতদিন চুপচাপ ছিলেন রানি। তবে সম্প্রতি ইতালিতে আদিত্যের সঙ্গে রানির বিয়ের খবরটি দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রানি ও আদিত্য উভয়ের পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হয়েছে তাদের বিয়ের ব্যাপারটি। বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা রানি মুখার্জির বিয়ে, প্রণয় এবং ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যত্ জীবনের নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
রানি মুখার্জির সঙ্গে আদিত্য চোপড়ার বিয়ে ঘটনাটি বলিউডে হঠাত্ আলোড়ন তুললেও কাউকে তেমন অবাক করেনি। সবাই যেন এর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে প্রেম করলেও এ নিয়ে লুকোচুরি করেছেন তারা দুজনই। অবশেষে তাদের বিয়ের ফুল ফুটেছে। সুদূর ইতালিতে আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। রানি-আদিত্যের বিয়ে নিয়ে বহুদিন অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তকূল ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ইতালিতে ছোট্ট ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকটা গোপনীয়তায় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উভয় পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা যায়, সংবাদমাধ্যম থেকে দূরে থাকতেই বিদেশে সুদূর ইতালিতে আদিত্যের সঙ্গে রানির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। গত বছর থেকে শোনা যাচ্ছিল, এ বছরেই আদিত্যের সঙ্গে সাত পাকা বাঁধা পড়তে চলেছেন রানি। তখন ধারণা করা হয়েছিল, গত ভ্যালেন্টাইনস ডে অর্থাত্ ১৪ ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়েটা হবে। কিন্তু তখন তা না হওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। এর আগে অনেকবার রানি ও আদিত্যের বিয়ের গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু প্রতিবারই সেসব খবর ভুল প্রমাণিত হয়েছে। রানি বিয়ের বয়স আরও আগেই পার করেছেন। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার কারণে তখন বিয়ে কথা ভাবতে পারেননি। বলিউডে একজন জনপ্রিয়, কাঙ্ক্ষিত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও তার শ্রেষ্ঠত্ব, খুব বেশিদিন স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের ‘গুলাম’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘সাথিয়া’, ‘চলতে চলতে’, ‘ব্ল্যাক’, ‘বীরজারা’, ‘হাম তুম’, ‘বান্টি আউর বাবলি’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘কাভি আলবিদা না ক্যাহনা’র মতো আলোচিত সফল জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমায় নায়িকা হিসেবে মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। একটানা সাফল্যের ধারা বেশি সময় ধরে না পারলেও অনেক দর্শকের হূদয়ে ঠাঁই করে নিতে পারাটা রানির বড় অর্জন। গত বেশ কয়েক বছর ধরে রানি মুখার্জির ক্যারিয়ারে ভাটা পড়ার ব্যাপারটি কোনোভাবেই আড়াল করা যাচ্ছিলো না। গত কয়েক বছরে ইয়াশ রাজ ফিল্মসের ছবি ছাড়া অন্য প্রযোজনা সংস্থার ছবিতে তাকে একদম দেখা যায়নি। দীর্ঘদিনের প্রেমিক এবং বর্তমানে স্বামী বলিউডের ডাকসাইটে প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার কারণেই একের পর এক ছবিতে নায়িকা হয়েছেন রানি এবং তার অভিনীত ছবিগুলো যথারীতি ফ্লপ করেছে। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে ‘আইয়া’ ছবিতে। এ ছবিতে দক্ষিণী নায়ক পৃথ্বিরাজের বিপরীতে নিজেকে নানাভাবে মেলে ধরার অনেক চেষ্টা করলেও দর্শকদের আগের মতো আকৃষ্ট করতে না পারায় রানি নিজেই উপলব্ধি করেছেন, ক্যারিয়ারে আর জোয়ার আসবে না। এবার অভিনয় জগত্ থেকে গুটিয়ে নিয়ে ঘর-সংসারে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। বলিউডে আগের জনপ্রিয়তা কমে আসায় অন্যান্য শীর্ষ অভিনেত্রীরা যেভাবে ঘর-সংসারে ব্যস্ত হয়েছেন তাকেও সেই পথ ধরতে হবে। সেই উপলব্ধি থেকেই প্রেমিক প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে গাটছড়া বেঁধেছেন রানি। কিন্তু রানি এখনও হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন। ইয়াশরাজ ফিল্মসের ব্যানারে ‘মারদানি’ ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি বর্তমানে। এখানে তাকে একজন দুর্ধর্ষ নারী পুলিশরূপে দেখা যাবে। রানি অভিনীত চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে ‘মারদানি’ ছবিটি আবর্তিত হবে। এ ছবির মাধ্যমে যদি বলিউডে ক্যারিয়ার আবার চাঙ্গা করে তোলা সম্ভব হয় তেমন আশায় বুক বেঁধেছেন রানি। তবে এই বয়সে তার পক্ষে আর বলিউডের রাজত্ব ফিরে পাওয়ার আশা বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। রানি নিজেও জানেন আজকের দীপিকা, প্রিয়াঙ্কা, সোনাক্ষি, সোনাম কাপুর, আনুশকা, পরিণীতি, আলিয়াদের মতো অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নায়িকাদের সঙ্গে ইদুর দৌড়ে আর সামিল হতে পারবেন না তিনি। তাই বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার দ্বিতীয় স্ত্রী হতে আপত্তি করেননি। ২০০৮ সাল থেকে রানি আদিত্যের সঙ্গে প্রেম করছেন। তারা দু’জন তাদের প্রেমের বিষয়ে মুখ না খুললেও চোপড়া পরিবারের অনুষ্ঠানে, ইয়াস রাজ ফিল্মসের কার্যালয়ে রানিকে সব সময়ে দেখা গেছে পারিবারিক সদস্যের মতো। বিয়ের পর অনেকটা উচ্ছ্বাসে রানি বলেছেন, ‘আমার জীবনের এই বিশেষ দিনের খুশি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আমার সব ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আমি সবসময় রূপকথায় বিশ্বাস করেছি। আর তাই স্রষ্টার আশীর্বাদে আমার জীবনটাও রূপকথার মতো হয়ে গেছে। এখন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। এই রূপকথা চলতেই থাকবে।’
জানা গেছে বিয়ে, হানিমুন শেষে মুম্বাই ফিরে স্বামী আদিত্যের বাড়িতেই বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ‘মারদানি’ ছবির কাজ শেষে অভিনয় থেকে লম্বা বিরতির কথা ভেবেছেন রানি।