অনেক পথে হাঁটা এলিটা
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৪৮
গান, সাংবাদিকতা, অভিনয়, মডেলিং, উপস্থাপনাসহ একাধিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত তিনি। তাই বিশেষণটাও বেশ লম্বা। এই দীর্ঘ বিশেষনের অধিকাংশই সাফলের গল্প। সেই অনেক পথে হাঁটা মেয়েটিকে নিয়েই আনন্দ বিনোদনের ছোট গদ্য।
তারিফ সৈয়দ
মিডিয়াতে
এখন অনেকেই অনেক কিছু করেন। কিন্তু সবাই সবক্ষেত্রে সফল হয়ে ওঠেন না। এলিটা এ হিসেবে ব্যতিক্রম। সাংবাদিকতা করছেন দীর্ঘদিন। গাইছেনও অনেক বছরের চর্চায়। এর পাশাপাশি উপস্থাপক এলিটা বেশ ক’বছর টিভি স্ক্রিনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও নিজেকে এই অবস্থান থেকে কিছুটা সংযত রেখে চলেছেন ইদানীং। তবে রেডিও ফুর্তিতে একটি নিয়মিত শো চলে তার। সেটি নিয়েও এলিটা ভক্তদের নানা রঙের কৌতূহল। খুব বেশি লোকজনদের সাথে মেশা হয় না তার। এবি অর্থাত্ গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর সাথে বেশ কটি ব্লুজ কনসার্টে অংশ নিয়ে এই ঘরানার গানেই যেন এলিটা চলনসই এমন একটা সিগনেচার তৈরি হতে চলেছে।
কিন্তু এর মাঝে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্নটি বারবার মিডিয়াতে ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো এলিটার সলো অ্যালবাম কবে আসবে? এটার খবর কী? একদিকে মিলা আর ব্লুজপ্রেমী এলিটার এই একক অ্যালবাম যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার রেকর্ড গড়তে শুরু করেছে।
অ্যালবাম নিয়ে প্রশ্ন করলেই সেই একই উত্তর এলিটার। ‘এই তো ভাই খুব শিগগিরই রিলিজ করব।’ আর নতুন ভিডিও? এলিটা আবারও হাসিমুখে জবাবে বলেন, ‘এত টাকা কই? তবে আমি টাকা গোছাচ্ছি। খুব শিগগিরই নতুন ভিডিওর কাজ শুরু করব।’
এদিকে এক তরুণ নাট্য নির্মাতার সাথে বন্ধুত্বের চেয়েও বেশ খানিকটা বেশি সম্পর্কের দোলাচলে মাঝে কিছুটা অভিমান পর্ব পেরিয়ে আবারও যেন পুরোনো প্রেম কাসুন্দিতেই মুগ্ধতার সময় গুনছেন।
‘ল্যান্ডফোনের দিনগুলিতে প্রেম’ নাটকের টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে শ্রোতাদের কানে বাজিয়েছেন নতুন কিছুর আহ্বান। স্বপন আহমেদের ‘পরবাসিনী’ ছবির টাইটেল ট্র্যাক গেয়েছেন। এর ভেতরে আরও গেয়েছেন বেশ কটি গান। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে রীতিমতো হৈচৈ করা আনন্দে ঘুরে এলেন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
নিজের অপার আনন্দ শেয়ার করতে গিয়েই আনন্দ বিনোদনকে বলেন, ‘এটা আমার জন্য দারুণ এক এক্সপেরিয়েন্স। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রাপ্তি।’
কিন্ত অ্যাম্বিশন বা তারকা ইমেজের লড়াই—এসব র্যাটরেসে কখনও ছিলেন না এলিটা। থাকারও ইচ্ছে নেই। তবু এর মাঝে সেরা তারুণ্যের সম্মাননা মিলেছে তার বেশ কিছু। রাতদিন দৈনিক পত্রিকার লেখালেখি, সম্পাদনার কাজের ফাঁকে আড্ডা আর গানের বসবাসই তাকে প্রতিটি দিন অন্যরকম করে তোলে।
নিজেকে তাই ব্যস্ততার দৌড়ে একজন সফল সংস্কৃতিক কর্মী হিসেবেই ভাবেন। বনানী বারিধারায় বেড়ে ওঠা হলেও, সেই অর্থে বাংলিশ কালচারে অভ্যস্ত হননি কখনও। তবে এই সকল বন্ধুদের দৌলতে বা বদৌলতে যাই হোক না কেন, তাদের অনুরোধ বা আইডিয়া শেয়ার করতে করতেই হয়ে উঠছেন নাট্য অভিনেত্রী। ভালোবাসা দিবসে একটি নাটকে অভিনয়ও করেছেন। তাই এত দিকে বিচরণের মানুষটির বায়োগ্রাফি তৈরি করতে হলে হয়তো মাথা ঘুরপাক খেয়ে একটি প্রশ্ন করতে হবে, ‘আচ্ছা এলিটা কোন কাজটিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?’
উত্তরটা অবশ্যই হবে গান। কারণ গানের এলিটা থেকেই তার হাজার পথে বিচরণ।