শ্রমিক পরিচয়টি সবচেয়ে প্রিয়

১ মে মানেই যেন ফকির আলমগীর। আজন্ম গণসংগীতে বসবাস করা এই শিল্পী কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু ১ মে’কে ঘিরে আপনার ব্যস্ততার কথা বলুন। ৩০ তারিখ সন্ধ্যা থেকেই ব্যস্ততা শুরু আমার। ৩০ তারিখ সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তনে রানা প্লাজার শ্রমিকদের নিয়ে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। ২ মে পর্যন্ত চলবে আমার ব্যস্ততা, ১ মে সকালে টেলিভিশনের লাইভ প্রোগ্রাম দিয়ে শুরু হবে। এরপর ওসমানি মিলনায়তনে যাব। নিজেকে একজন শ্রমিক ভাবতেই ভালো লাগে। গণসংগীতের উদ্দেশ্যটা কি এখনও ইতিবাচক? অবশ্যই ইতিবাচক। আর নিজেদের ইমেজ ধরে রাখার জন্য আমরা গান করি না। ষাটের দশকে গণসংগীত করে যে আবেগটা পেতেন, তা কি এখন পান? সেই আবেগ না পেলেও এখনও আবেগ দিয়েই গান করি। তখন তো সবকিছু ছিল স্বাধীনতা ঘিরে। কিন্তু স্বাধীনতা পাওয়ার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। তাই সেই রক্ষার তাগিদেও তো এখন গান করতে হয়। গণসংগীত আমার প্রাণ। যতদিন গাইব আবেগ দিয়েই গাইব। নতুনদের নিয়ে কী বলবেন? নতুনরা অনেকে এখন গণসংগীত করছে। যেমন চিরকুট, প্রমিথিউস আরও অনেকে। তারা ভালো করছে। তাদের কথায় উঠে আসছে দেশ। দেশের সমস্যা। কৃষ্ণকলিও খুব ভালো গান করছে। তবে নিজস্ব প্রচারের জায়গাটা এড়িয়ে যাওয়ার জায়গা নেই। নিজস্ব প্রচার তো গণসংগীতের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য থেকে বাইরে চলে আসাটা দুঃখজনক। কিন্তু বড় কয়েকটা ঘটনা ছাড়া তো দেশের অরাজকতা নিয়ে আপনারা তেমন গান করছেন না কেন? এ ব্যাপারে একমত না। আমরা গান করছি। গত বছর রানা প্লাজা ছাড়াও বিশ্বজিতকে নিয়ে, তাছাড়া আরও অনেক ঘটনা নিয়ে আমরা গান করছি। যেগুলো মিডিয়াতে প্রচার পাচ্ছে সেগুলো দর্শকরা দেখতে পারছে। আমরা এমন অনেক গান করছি যা মিডিয়াতে প্রচার পাচ্ছে না। কিন্তু গান হচ্ছে এবং হবে। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী গণসংগীত সংস্থার গানের আয়োজন করা হয়েছিল। আমি সেই সংগঠনের সভাপতি। তিন দিনব্যাপী হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল সেখানে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসেছিল। সেখানে কিন্তু আমরা গান করেছি। আমাদের বর্তমান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে।