ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলনে বিপর্যয়

লিচুর রাজধানী বলে খ্যাত ঈশ্বরদীর গ্রীষ্মকালীন অন্যতম অর্থকরী ফসল লিচু ফলনে এবারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। লিচুর ব্যাপক চাহিদা এবং ঈশ্বরদীর মাটি লিচু চাষের উপযোগী হওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে ঈশ্বরদীতে লিচু চাষ ব্যাপক হারে সম্প্রসারিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ২৪০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবারে ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলনে বিপর্যয় নেমে এসছে। বেশিরভাগ গাছে লিচু নেই। গত বছরের ফলনের তুলনায় এবার তিন ভাগের এক ভাগ লিচু পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষক এবং উপজেলা কৃষি অফিস। এলাকার লিচু বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানের বেশিরভাগ গাছে লিচুর গুটি নেই। কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বাগানগুলোর গাছে লিচু নেই। শুধু সবুজ পাতা শোভা পাচ্ছে। এবার লিচুর ফলন কম হওয়াতে দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, বিগত সময়ে হরতাল-অবরোধে সবজি ও অন্যান্য ফলমূল বিক্রি করতে না পেরে কৃষক এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। লিচু বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতিপূরণের স্বপ্নও এখন ভঙ্গ হতে চলেছে। লিচুর ফলন বিপর্যয় হওয়াতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বলেন, গতবার ঈশ্বরদীতে যে পরিমাণ লিচু এসেছিলো এবার তার চারভাগের একভাগ লিচু পাওয়া যাবে। তিনি জানান, তার খামারের ১২০টি লিচুগাছের মধ্যে মাত্র কয়েকটি গাছে সামান্য পরিমাণ লিচু এসেছে। যে সকল বাগানের গাছে লিচু এসেছে চলতি প্রচণ্ড খরার কারণে সেগুলোতেও লিচুর গুটি ঝড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে কৃষক সবজি ও কুল বিক্রি করতে না পারায় অনেক কৃষক পথে বসেছে। এনজিও এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আশা ছিল লিচু বিক্রি করে ঋণ কিছুটা পরিশোধ করতে পারবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খুরশিদ আলম জানান, লিচু ঈশ্বরদীর অর্থকরী ফসলগুলোর শীর্ষে। বিগত বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৫৫০-৬০০ কোটি টাকা লিচু কেনাবেচা হয়েছিল। এবারে ঈশ্বরদীতে ২৪০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ৫০ ভাগ গাছেই এবারে লিচু আসেনি। খরার তীব্রতায় লিচুর গুটি ঝড়ে পড়ায় গতবারের তিন ভাগের একভাগ লিচু পাওয়া যেতে পারে। ফলন বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলেও কৃষক ও কৃষিবিদরা ধারণা করছেন।