টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৪
চাকরির বাজারে বস্ত্র প্রকৌশলীদের চাহিদা আমাদের দেশে রয়েছে আগে থেকেই। এখন এই চাহিদা আরও বেড়েছে। ফলে দেখা যায় অনেক সময় এই বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করার আগেও চাকরি পাওয়া যায়। এই খাত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাত হওয়ায় দিন দিন এর চাহিদা এবং গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদানও রেখে চলেছে এই বস্ত্রশিল্প। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সারাদেশে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে সফলভাবে পরিচালনা করতে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে দক্ষ জনবলের। বস্ত্রকৌশল তাই এ সময়ের তরুণদের জন্য সময়োপযোগী ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে।
বস্ত্রকৌশল কী
শিল্প প্রতিষ্ঠানের সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। একসময় যেখানে তাঁতে বুনে কাপড় তৈরি করা হত, এখন আর সেভাবে কাপড় তৈরি করে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। কারণ এর পুরো প্রক্রিয়াটাই ব্যাপক সময়নির্ভর। তাই এখানেও মানুষ সাহায্য নিচ্ছে যন্ত্রের। সুতা থেকে পোশাক বানানোর এই প্রযুক্তিনির্ভর পুরো প্রক্রিয়াটিই বস্ত্র কৌশলের বিষয়। যে কোন আঁশ থেকে সুতা, বস্ত্র এবং রঙের মিশেল অধিকতর উপযোগী জিনিস বানানোর যে প্রযুক্তি এক কথায় তাই হলো বস্ত্রকৌশল।
বস্ত্রকৌশলের চারটি পর্যায় রয়েছে—সুতা তৈরি, কাপড় তৈরি, সুতা বা কপড় রং করা এবং সবশেষে পোশাক তৈরি। এগুলোকে আবার ইয়ার্ন, ম্যানুফ্যাকচারিং, ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, ওয়েট প্রসেসিং ও গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি—এই চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ০১৭৬৭৭৭৭২২২, ০১৯৭১৩৩৯৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বস্ত্রকৌশলের পড়ালেখা সম্পর্কে আরও তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
চাকরি ক্ষেত্র
বস্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাদের পেশাজীবন অনিশ্চিত নয়। শুধু রপ্তানি খাতে সিংহভাগ বস্ত্র যোগানোই নয়, দেশের বস্ত্র চাহিদা পূরণের জন্য বস্ত্র প্রকৌশলীদের রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। অনেকে মনে করেন বস্ত্রকৌশলীদের চাকরির ক্ষেত্রে কেবল টেক্সটাইল কারখানাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। শুধু টেক্সটাইল মিল নয় তাদের চাকরির সুযোগ রয়েছে মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, কাস্টমস, বিনিয়োগ বোর্ড, বিসিক, বিজিএমইএ, বিজিএম, জুট, রিসার্চ, তুলনা উন্নয়ন বোর্ড, রেশম বোর্ড, বিএমবিআই, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট, ডিজাইন, টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স, বায়িং হাউজের মতো বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে।
এই ধরনের প্রকৌশলীদের একদিকে যেমন রয়েছে ব্যাপক চাহিদা, অন্যদিকে রয়েছে অপ্রতুলতা। যে কারণে এই পেশায় রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এ ছাড়াও বস্ত্রপ্রকৌশলীরা ইচ্ছা করলেই পুঁজি সংগ্রহ করে স্ব-উদ্যোগে স্থাপন করতে পারেন টেক্সটাইল মিল। একজন বস্ত্র প্রকৌশলীর উপার্জনও মন্দ নয়। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাসাপেক্ষে এই পেশা অন্যান্য পেশার চাইতেও বেশি পরিমাণে আয় করা সম্ভব।
কোথায় পড়বেন
বস্ত্রকৌশলে ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে সোনারগাঁও ইউনির্ভাসিটি। এখানে তত্ত্বীয় পড়ালেখার সাথে সাথে ব্যবহারি কাজও শেখানো হয়।
যোগাযোগ :৭১, কাওরান বাজার, ঢাকা।