চট্টগ্রামে শিল্পখাতে অস্থিরতা
এপ্রিলেই বন্ধ হয়েছে ১৪ কারখানা
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৭
চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় অস্থিরতা চলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ এই এপ্রিল মাসে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামে ১৪টি কারখানা। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা রয়েছে ৭টি। ত্রুটিপূর্ণ ভবনে শ্রমিকদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে কারখানা পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং বিভিন্ন কারখানার আর্থিক লোকসানসহ বিভিন্ন কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়।
তাছাড়া বেতন-ভাতাসহ নানা কারণে গত ১ মাসে চট্টগ্রামে পতেঙ্গা-ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন কারখানায় ভাংচুর, অবরোধসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশসূত্রে জানা যায়। এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এবং শ্রমিক-মালিকদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং চট্টগ্রাম ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। অবশ্য এ ধরনের ঘটনাকে পতেঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পরিচালক তবারক উল্লাহ ‘ছোটখাটো’ ঘটনা হিসাবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রামে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো পরিদর্শনরত বিদেশি ক্রেতাদের পরিদর্শন দল চট্টগ্রামের ৭টি তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকার কারণে বন্ধ করে দিয়েছেন। একর্ড এবং এলায়েন্সের সাথে ব্যবসায়িকভাবে সম্পর্কিত কারখানাগুলোতে একর্ড-এলায়েন্স পরিদর্শন টিম এবং বাংলাদেশের অপর একটি টিম যৌথভাবে পরিদর্শনের কাজ করছে বলে চট্টগ্রামের কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দপ্তর থেকে বলা হয়। এই টিমের রিপোর্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত রিভিউ প্যানেলে পর্যালোচনার পর আরএমজি কারখানা ভবন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে বলে কল-কারখানা পরিদর্শন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান।
চট্টগ্রাম কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দপ্তরের উপ-প্রধান পরিদর্শক (সাধারণ) জাকির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আরএমজি সেক্টরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা ভবনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পূরণ করা হলে সেগুলো চালু করা যাবে। এখানে বিশেষ করে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে এপ্রিল মাসে বন্ধ হয়েছে সর্বমোট ১৪টি কারখানা। এর মধ্যে অন্যান্য সেক্টরের যে ৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে সেগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষই অন্যতম কারণ। এছাড়া কিছু কিছু কারখানা লে-অফ করা হয়েছে।