মে দিবস কি জানেন না চাতাল শ্রমিকরা!

আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ৪ শতাধিক চাতালকলের প্রায় ২০ সহস্রাধিক শ্রমিক জানেন না এই শ্রম বা মে দিবস কি! এই দিনটি-ই বা কাদের জন্য। শ্রম আইন থাকলেও এখনো চাতাল মালিকদের নির্দেশেই চলে চাতাল শ্রমিকদের জীবন। তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করলেও ঘোরাতে পারেন না নিজেদের ভাগ্যের চাকা। এই দিন সরকারি ছুটি হলেও কাজ বন্ধ থাকবে না চাতাল শ্রমিকদের। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি চাতাল কলে গড়ে ৬০/৭০ জন শ্রমিক কাজ করেন। সে হিসাবে ৪ শতাধিক চাতাল কলে প্রায় ২০ সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করেন। বেশিরভাগই অক্ষর জ্ঞানহীন, যার কারণে চাতাল কল মালিকদের অবহেলার স্বীকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। বর্তমান বাজারে চালের দাম কয়েক দফা বাড়লেও যারা নিরলস কাজ করে এই চাল উত্পাদন করেন সেই চাতাল শ্রমিকদের মজুরী বাড়েনি কখনো। মে দিবস কি? প্রশ্ন করা হলে চান বকস রাইস মিলের শ্রমিক মুজিবর জানান, ‘দিবস দিয়া কি অইব? আমাগো পেট চলনের লাইগা কাজ করতে অইব, এসব দিবস-টিবস লইয়া আমাগো মাথা গামাইয়া লাভ নাই।’ আলমগীর অটো রাইসমিলের শ্রমিক সবুজ ও কল্পনা জানান, শ্রম দিবস বা মে দিবস কি তারা তা জানেন না। এ ব্যাপারে তাদের কেউ কিছু বলেছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানান, এ সম্পর্কে তাদের কেউ কিছু বলেননি। ভাই ভাই চালকলের শ্রমিক মোমেনা বেগম জানান, ৫০০ মণ ধানের মাঠ উঠলে গড়ে দৈনিক আমরা পাই ৪০/৫০ টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। বর্তমান বাজারে সবকিছুর দামই বেশি। অনেক কিছু কিনতে ইচ্ছে হলেও টাকার অভাবে কিনতে পারি না। বাচ্চারা যখন কিছু কিনে দিতে বলে তখন খুব খারাপ লাগে। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনিও জানান, শ্রম দিবস সম্পর্কে তার কোন ধারণা নাই। চাতাল শ্রমিক সুজন মিয়া জানান, ২ দিনে একটি মাঠ উঠলে মজুরী বাবদ সে পায় মাত্র ১শ’ টাকা। এই অল্প টাকায় তার সংসার চলে না তারপরও বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে। চাতাল মালিক হেবজু মিয়া জানান, মে দিবসে শ্রমিকরা কাজ না করে ছুটি চাইলে ছুটি দেয়া হবে। তিনি দাবি করেন, আমরা সবসময় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ করতে চেষ্টা করি। আমরা এর মধ্যে আগের মজুরী মণ প্রতি ১.৭৫ পয়সা করে বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন সবকিছু ঠিকঠাক মত চলছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ আশুগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানসেন জানান, মে দিবসের অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। প্রসঙ্গত, বয়লার রাইসমিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবানে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা রাইসমিলের প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক শ্রম আইন বাস্তবায়ন, মজুরী বৃদ্ধি, শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করলেও দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।