মশাবাহিত নতুন রোগ

রাজধানীতে চিকনগুনিয়া নামের মশাবাহিত এক ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস এজেপটি প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উত্পত্তি। সমপ্রতি মহাখালীর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ঢাকার প্রায় ৩৩ শতাংশ লোক এ রোগে কোনো না কোনোভাবে আক্রান্ত। বুধবার ‘ভেক্টর বর্ণ ডিজিজ’-এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে আইইডিসিআর-এর পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি ভাইরাসবাহিত রোগ। জীবনের জন্য এ রোগ সরাসরি হুমকি নয়, তবে এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর নানা শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দেয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমি বমি ভাব, হাত ও পায়ের গিটে এবং আঙ্গুলের গিটে ব্যথা, ফোসকা পড়া ও শরীর বেঁকে যেতেও পারে। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে। আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করে। মাহমুদুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র নারী এডিস মশার কামড়েই এই রোগ হতে পারে। সাধারণত মশা কামড়ানোর ৫ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে উঠে। তিনি জানান, ২০০৫ সালে ভারতে এ রোগ ভয়াবহতা দেখা দিলে, সেসময় ১৪ লাখ মানুষ আক্রান্তের খবর সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেও এ রোগ প্রবেশ করেছে। ভৌগোলিকভাবে ভাইরাসজনিত এ রোগ রাজশাহীর সীমান্তবর্তী অঞ্চল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের, বারোঘড়িয়া, শিবগঞ্জ, পাবনার সাঁথিয়া এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও দোহারের পথে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড হেলথ প্রোটেকশন’ ইউনিটের সহায়তায় ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর সূত্রাপুর, ধানমন্ডি, মতিঝিল এবং মহাখালী এলাকার ৬২১ জন ব্যক্তির রক্ত স্যাম্পল হিসাবে নেয়া হয়। প্রতি ১০ বাড়িতে একজনের স্যাম্পল নেয়া হয়। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। দেশে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ওপর পরিচালিত সবচেয়ে বড় সমীক্ষা এটি। ডেঙ্গু সমীক্ষার ফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানান তিনি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্যাম্পল নেয়া ৬০১ জনের মধ্যে ২০৭ জনই এই রোগে আক্রান্ত। যা মোট স্যাম্পলের ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়াও ১৬ জনকে পাওয়া গেছে যারা আগেও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, জ্বর ও মাথাব্যথার চিকিত্সাতেই এ রোগ সেরে উঠে। তবে মশার কামড় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।