রেলওয়ে সেবার মান বৃদ্ধি করা হোক

২০১২ সালের পহেলা অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিবহনে ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। যুক্তি দেখানো হয়— ১৯৯২ সালের পর থেকে ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেলের যাত্রী ও মালামাল পরিবহন বাবদ ভাড়া আর বাড়ানো হয়নি। অথচ তখন রেলের জ্বালানির দাম ৪২০ শতাংশ এবং যন্ত্রাংশের দাম ৩৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত রেলের লোকসান বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলকে অবহেলা ও উপেক্ষা করা হয়েছে। এই সময়ে বিদেশি সহযোগিতায় দেশব্যাপী সড়কব্যবস্থা সমপ্রসারিত করা হলেও সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও আরামদায়ক গণপরিবহন রেলওয়ে বিভাগ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকদের কাছ থেকে আমরা রেলওয়ের যে মজবুত কাঠামো পেয়েছিলাম তাও ধরে রাখতে পারিনি। সড়কপথের পরিবহন ব্যবসার স্বার্থ সংরক্ষণ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে অনেক রেলরুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কালুকালি-ভাটিয়াপাড়া, পাঁচড়িয়া-ফরিদপুর, রুপসা-বাগেরহাট উল্লেখযোগ্য। বিষয়টি খবুই দুর্ভাগ্যজনক। নিরাপদ ও জনপ্রিয় এ পরিবহনখাতের সব ধরনের অনিয়ম নির্মূল করা দরকার। রেলমন্ত্রী সমপ্রতি নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে ট্রেনে একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং টিকেট কালোবাজারি হওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রেলওয়ে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেবার মান এখনো বৃদ্ধি করা হয়নি। যা যাত্রীদের সঙ্গে একটি বড় প্রতারণা। সিডিউল মেনে ট্রেন আসা-যাওয়া করছে না। ট্রেনের ভেতর দুর্গন্ধ ও ছারপোকার আস্তানা। মানুষের প্রিয় এ পরিবহনের সেবার মানও বৃদ্ধি করা হোক। নোয়াখালী