মোদীকে কারাদণ্ড থেকে বাঁচালো গুজরাট পুলিশ

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন তার শাস্তির অপেক্ষায় দিন গুনছিল তখন গুজরাট পুলিশ ঘোষণা দিল, মোদী নির্দোষ। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করেননি। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বিচার করার যৌক্তিকতা নেই। গুজরাট পুলিশের এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে কংগ্রেসসহ আরো কয়েকটি দল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মোদীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। বিজেপি নেতাকে ‘ক্লিনচিট’ দেয়ায় গুজরাট পুলিশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমনকি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও। মোদী এবারের লোকসভা নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে দুই বছর পর্যন্ত কারাবাসের ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত বুধবার গান্ধীনগরের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাইরে এসে নিজের দলের চিহ্ন পদ্মফুল দেখান তিনি। তাছাড়া তিনি বিধি ভঙ্গ করে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিজেপি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী লোকসভার ভোটের ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোট কেন্দ্র থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করে প্রার্থীদের রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা তাদের প্রতীক প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু মোদীর বিরুদ্ধে সেই আইন ভাঙার অভিযোগ আসায় পুলিশকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন । এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে। কিন্তু গুজরাট পুলিশ মোদীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগের প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়ে দিয়েছে। ২০০১ সাল থেকে মোদী এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার রাজ্যের পুলিশের তদন্তে বলা হয়, রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে প্রার্থীদের বিরত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রের বাইরে একটি সাদা দাগ দিয়েছিল। মোদী কথা বলেছিলেন এবং তার দলের প্রতীক দেখিয়েছিলেন সেই দাগের বাইরে দাঁড়িয়ে। একারণে তাকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ আরো দাবি করে, মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কখনোই প্রমাণ হবে না। কারণ যে সাংবাদিকদের সাথে তিনি বুথের বাইরে কথা বলেছিলেন তাদের তিনি নিজে সংবাদ সম্মেলনে ডেকে আনেননি। সাংবাদিকরা নিজ থেকেই তার কাছে এসে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসব বক্তব্য মানতে রাজি নয় কংগ্রেসসহ বিজেপি-বিরোধী দলগুলো। কেন্দ্রীয় টেলিকমিউনিকেশন ও প্রযুক্তি এবং আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী কপিল সিবাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মনে হয় না গুজরাট পুলিশ কাউকে এমন রিপোর্ট দিতে পারে। নির্বাচন কমিশন যে অভিযোগ এনেছে তার সাথে মোদী কত দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সম্পর্ক নেই। তিনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন এটাই প্রথম অভিযোগ। তিনি আরো বলেন, তাহলে কি প্রমাণ হবে যে নির্বাচনী আইন কেবল সাধারণ মানুষের জন্য? নরেন্দ্র মোদী কি ঈশ্বর নাকি? কিংবা তাকে কি ‘আইনের উর্ধ্বে’ বলে কেউ সাটিফিকেট দিয়েছে?’ তবে মোদী বলেছেন, কংগ্রেস ভয় পেয়ে এসব বলছে। তিনি স্কুটারও ড্রাইভ করেছেন। কখনো রং সাইড দিয়ে গাড়ি চালানো কিংবা অন্য কোনো অভিযোগে তার নামে কখনো এজাহার হয়নি। এখন কংগ্রেস সামান্য ব্যাপার নিয়ে তোলপাড় শুরু করেছে।