নলছিটি হিসাব রক্ষণ অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি

টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে। নলছিটি উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা প্রায়শই বলেন, আকাশে যত তারা হিসাব রক্ষণ অফিসারের তত ধারা। তার সাজানো ধারায় ফেলে বিগত তিন বছর ধরে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এতে অতিষ্ঠ হয়ে এবার ফুঁসে উঠেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ওই কর্মকর্তা ও তার অফিসের অসাধু কর্মচারীদের অপসারণের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন চলাকালীন সময় ডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকরী শিক্ষক নাজমুল হায়দার খান বাদল হিসাব রক্ষণ অফিসের ঘুষ, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না নলছিটি উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা ও তার অফিসের কর্মচারীদের ঘুষ,দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগ প্রাপ্ত দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরীদের প্রথম মাসের বেতন পাস করানোর জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা হারে ২৮ জনের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা এবং তাদের মহার্ঘ্য ভাতা বিল পাস করানোর জন্য সমপরিমাণ টাকা ঘুষ নিয়েছেন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। আঃ রব মোল্লা নামের তেঁতুল বাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অপর এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বেতন ওভার ড্রনের ভয় দেখিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়। পরে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে বিল পাস করেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। । এভাবে ঘুষ চাওয়ার ও নেয়ার ডজন ডজন অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তা ও তার অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শিক্ষকদের টাইম স্কেল, বেতন ফিকসেশন, অবসরভাতা উত্তোলনসহ ওই দপ্তরে সংশ্লিষ্ট সকল কাজের জন্য মাসের পর মাস ঘুরছেন শিক্ষক-কর্মচরীরা। এব্যাপারে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সুজায়াত আলী লস্কর বলেন, আমি শুনেছি শিক্ষকরা মানববন্ধন এবং ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ করেছেন, কিন্তু আমি এর কিছুই বুঝতে পারছি না। আমিতো খারাপ কোন কিছুর সঙ্গে জড়িত নই।