জঙ্গিবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া
প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৪, ২৩:২১
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি (খালেদা) দেশে জঙ্গিবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই কেবল জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরলে হবে না, যে ব্যক্তি জঙ্গিবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার বিরুদ্ধেও কলম ধরতে হবে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ নয় প্রগতিশীল গণতন্ত্র। বরং নব্বইয়ের যে শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছে, সেই সাম্প্রদায়িকতার শক্তি হলো গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু ওয়েজ বোর্ড নিয়ে আন্দোলন করলে চলবে না। জঙ্গিবাদ ও এর পৃষ্ঠপোষককে চিহ্নিত করতে হবে। কারণ জঙ্গিবাদের সমর্থকরা গণমাধ্যমেরও শত্রু।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্রিডম হাউজের বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস পাওয়া সম্পর্কিত প্রতিবেদনকে মিথ্যাচার হিসাবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এগিয়েছে, কোন অবস্থাতেই তা হ্রাস পায়নি। তাই ফ্রিডম হাউজের বাংলাদেশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস পাওয়ার প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করছি। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ বিষয়ে একটি জরিপ চালানোর অনুরোধ জানান। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০১৪ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ফ্রিডম হাউজ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার র্যাংকিং প্রকাশ করেছে। গত বছর বাংলাদেশের র্যাংকিং ছিল ১১২। গত বছরের তুলনায় এ বছর তিন ধাপ নিচে নেমে দাঁড়িয়েছে ১১৫-তে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর আগেও সংবাদ মাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, এখন সেটুকুও নেই। তাঁর (ইনু) সময়কালে সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। গত ৫ বছরে গণমাধ্যম আরো সমপ্রসারিত ও সহনশীল হয়েছে। রাজনৈতিক বা সরকারের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে সরকার কোন সাংবাদিককে হত্যা, নির্যাতন বা হয়রানি করেনি। গুম ও খুনের ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমকে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার হত্যা-গুম বন্ধ করতে চায়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যা-গুমের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে দিয়েই সরকার প্রমাণ করেছেন যে এ ঘটনা বন্ধ করতে চায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলী অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, অস্বচ্ছ ও কালো টাকার মালিকরা মিডিয়ার মালিক বনে কর্পোরেট, রাজনৈতিক, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিস্বার্থে মিডিয়াকে ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কারণ তারা গণতন্ত্রের ক্ষতি করছে। মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষতি করছে।
গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল, যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল ইসলাম তালুকদার, নির্বাহী সদস্য কাজি রফিক, রহমান মুস্তাফিজ, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, ডিইউজে কোষাধ্যক্ষ শাহানা শিউলী, মহিলা সাংবাদিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিল মনোয়ারা মনু, জার্নালিস্ট এগেইনস্ট টর্চার-এর সাধারণ সম্পাদক বরুন ভৌমিক নয়ন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফইউজে সহ-সভাপতি ড. উত্পল কুমার সরকার।
সরকার গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ নয়
তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ নয়। আসলে গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ জঙ্গিবাদ। এটা গণমাধ্যম কর্মীদের বুঝতে হবে। শনিবার বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস উপলক্ষে পিআইবি মিলনায়তনে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য সচিব মরতুজা আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআইবি’র মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর।