আইনজীবী সমাবেশে ৭ হত্যার বিচার দাবি
প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৪, ২৩:২৩
নারায়ণগঞ্জে আইনজীবীরা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে ডিসি, এসপি ও র্যাবের সিওকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। গত দুই বছরে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে যদি এর বিচার করা হয় তবে তাদেরকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
গতকাল শনিবার বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ ৭ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আজ রবিবার হরতাল সফল করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। সমাবেশে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভুঁইয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর খুন, গুমের শহরে পরিণত হয়েছে। সকালে বাসা থেকে বের হলে আর ফিরবো কিনা তা বলা যায় না। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে এসপি, ডিসি ও র্যাবের সিও প্রত্যাহার করা হয়েছে, ২ বছরে যত খুন হয়েছে তার বিচারে তাদেরকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক বলেন, নারায়ণগঞ্জে আগে যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে তার বিচার হলে ৭ জনের হত্যাকাণ্ডে সাহস পেতো না খুনিরা। আমরা হত্যা, খুনের সুষ্ঠু বিচার চাই।
অ্যাডভোকেট মাহবুব রহমান মাসুম বলেন, ওরা আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। সন্ত্রাস মুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই। দক্ষ প্রশাসন চাই। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত তাদের প্রত্যাহার চাই। এ হরতালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সকলে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ হরতাল রিকশাচালক, ব্যবসায়ীদের, আইনজীবীদের। সকল নারায়ণগঞ্জবাসী এ হরতালে সমর্থন করবে।
অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, একটি অপরাধের বিচার না হলে খুনিরা আরেকটি অপরাধ করার সাহস পায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বলেন, চন্দন সরকার অপহরণের পরে র্যাবের কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তারা কিছু করতে পারে নাই। অতীতের বিচার না হওয়ার কারণে এসব হচ্ছে। ডিসি, এসপির ব্যর্থতার কারণে তাদের প্রত্যাহার করলেই চলবে না, যারা ব্যর্থ তাদের বিচার করতে হবে। নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হলে সন্ত্রাসীরা কিছু করতে পারবে না।
নতুন ডিসি এসপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগের ডিসি এসপি এসির নিচে বসে আমাদের কথা শুনিয়েছে, কোন কাজে ছিলো না। নারায়ণগঞ্জ মাদকের শহর হয়ে গেছে। সন্ত্রাসী যে কেউ হোক তাকে গ্রেফতার করতে হবে। যদি তা না হয় তবে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অচল করে দেব।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট ফজলুল রহমান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, ‘দৈনিক খবরের পাতার’ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবু রহমান মাসুম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা সভাপতি নিখিল দাস, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর মাহবুবু রহমান ইসমাইল ও নাছির উদ্দিন মন্টু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, অ্যাডভোকেট হাসান মাসুদ জুয়েলসহ অন্যান্য আইনজীবী।
খুনিদের গ্রেফতার দাবিতে ধর্মঘট কাউন্সিলরদের
প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ হত্যাকাণ্ডে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার থেকে ২ দিনব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট পালন করবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কাউন্সিলররা। শনিবার সকালে নগর ভবনে এক বৈঠকে কাউন্সিলররা এ সিদ্ধান্ত নেন। প্যানেল মেয়র-১ ওবায়েদুল্লাহ জানান, রবিবার থেকে ২ দিনব্যাপী নগর ভবনের সামনে কাউন্সিলররা কর্মবিরতি করে অবস্থান ধর্মঘট পালন শুরু করবেন। আগামী ৭ মে তাদের মাসিক সভা রয়েছে। ওই সভায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।