ত রু ণী ক থা ........................

রোমানা হামিদ

রোমানা হামিদ। পড়ছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে। নারী নির্যাতন বিষয়ে রোমানা নানা বিষয় তুলে ধরেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু নারীদের সচেতন করলে হবে না। সবচেয়ে জরুরি পুরুষ ও যুবকদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করা। এছাড়া নারী নির্যাতনকে পারিবারিক বিষয় বা ঘরোয়া ব্যাপার বলে চুপ করে থাকলে চলবে না। এক জরিপে দেখা যায়, দেশে বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশ স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সময়ে, কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিবাহিত নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে স্বামীর মাধ্যমে যৌন নির্যাতনেরও শিকার হন। জরিপ প্রতিবেদনের সুপারিশে নারী নির্যাতনকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রতিরোধে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী নির্যাতনের পক্ষে প্রচলিত বিভিন্ন নীতি-আচরণ পরিবর্তন ও নারী নির্যাতন আর সহ্য না করার প্রচার বাড়াতে গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং নির্যাতিত নারীকে আইনি সুরক্ষা দেয়ার সুপারিশও প্রতিবেদনে করা হয়েছে। অনেক শিক্ষিত নারীও বুঝতে পারেন না যে তিনি নির্যাতনের শিকার। সব ধরনের নির্যাতনের বিষয়ে নারীকে সচেতন হতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। আর নারীদের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। আইন ও নীতির বাস্তবায়ন যেমন জরুরি, তেমনি নারী নির্যতনবিরোধী মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে পুরুষদের সম্পৃক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সবাই সচেতন হলে নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তৃণমূলে কমিটি জোরদার করা সম্ভব হলে তাত্ক্ষণিক নজরদারি ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের চেয়েও বেশি জরুরি জনসচেতনতা। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারীরা আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পান। তবে যারা আইনের আশ্রয় নেবেন, তারা যেন সুরক্ষা পান, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের প্রশিক্ষণে নারী নির্যাতনবিরোধী আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত করতে হবে। জরিপ প্রতিবেদনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র, বিনা মূল্যে হেল্প লাইন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। পারিবারিক আদালতকে শক্তিশালী করা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া, পাঠ্যসূচিতে মানবাধিকার, নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা, বহু বিবাহের কুফল এবং পারিবারিক নির্যাতনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে প্রচার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়গুলো স্কুলের পাঠ্যবইতেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সচেতন করে তুলতে হবে।