এবার ভয় পেয়েছে রাশিয়া!
প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৪, ২১:০০
ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর যখন প্রথমবারের মতো অবরোধ আরোপ করে তখন রাশিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের হাস্যোজ্জ্বল মুখাবয়বই বলে দিয়েছিল যে এই ধরনের অবরোধ আরোপ রাশিয়ার জন্য কোনো বিষয় নয়। তবে এখন সেই মুখাবয়বের আকৃতি কিছুটা হলেও ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এদিকে ইউক্রেনে ক্রমেই সংঘাত বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আগামী ২৫ মে’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশটিতে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি প্রয়োজনে আবারো অবরোধের হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়া ইউক্রেনে বিশৃঙ্খলা উস্কে দেয়া অব্যাহত রাখলে ২৫ মে’র পরিকল্পিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর আরো ব্যাপক শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেনে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা এতই প্রবলভাবে অব্যাহত থাকলে এবং এর ফলে ২৫ মে’র নির্বাচন বিঘ্নিত হলে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে অগ্রসর হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। রাশিয়ার অর্থনীতির নির্দিষ্ট কিছু খাত লক্ষ্য করে কিছু নিষেধাজ্ঞাসহ আমাদের কাছে বেশ কিছু হাতিয়ার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওবামা। ইউক্রেনে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শুক্রবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে একটি ফোনালাপ স্থগিত করেন। এছাড়া রাশিয়ার অনুরোধে
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে
রাশিয়ার অভিযোগ
স্লাভিয়ানস্কে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর হামলার কারণে দেশটি বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়া গত মাসে জেনেভায় হওয়া শান্তি চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করে। পুতিনের ঘনিষ্ঠ ভ্লাদিমির ইয়াকুনিনের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি রাশিয়ার রেলওয়ের প্রধান। তিনি বলেছেন, তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। আর তার কোনো সম্পদ নেই। সুতরাং এটা আমার ওপর কোনো খারাপ প্রভাব ফেলবে না। ইয়াকুনিন যতোই বলুন তার ওপর একটা প্রভাব পড়বেই। কারণ, তার ছেলে-মেয়ে বিদেশ থাকে। তাদের ওপর একটা প্রভাব রাখবে। এছাড়া তিনি দুবাইয়ে একটি বাড়ি করার পরিকল্পনা করেছেন। এই বাড়ির অর্থ পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। আর আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কোরি সেচেক জানান, অবরোধের প্রভাবটা হবে দীর্ঘমেয়াদী। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে তিনটি ব্যাংকের ওপর অবরোধ আরোপ করতে পারে শোনা যাচ্ছে। যদি এটা করে তাহলে সেটা রাশিয়ার ক্ষতির কারণ হবে। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার করপোরেশনগুলো তাদের ঋণ পুনঃচক্রায়ন করতে পারছে না। তাদের শেয়ারবাজারের আইপিও বাতিল করতে হচ্ছে। আর এজন্য মূল্য দিতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থনৈতিক মান নির্ধারণকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর সমপ্রতি জানিয়েছে, রাশিয়ার অর্থনীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফের অবরোধ আরোপ হলে এই প্রবণতা আরো নিম্নমুখী হবে। রাশিয়ার অর্থনীতি মূলত পরিচালিত হয় গ্যাস অর্থনীতি দ্বারা। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে রাশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। গত ২০ মার্চ ২০ জন কর্মকর্তার ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়। এতে রাজনীতিবিদরাই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গত সপ্তাহের সোমবার ৭ জন সরকারি কর্মকর্তা তথা পুতিনের ঘনিষ্ঠদের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়। এছাড়া ১৭টি কোম্পানিও এর আওতায় আছে। এই কোম্পানিগুলোর ১৩ জনের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এই কোম্পানিগুলো মার্কিন পণ্য আমদানি করতে পারবে না এবং এ সংক্রান্ত লাইসেন্সও তারা পাবে না।
নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানী টিমোথি ফিরি বলেন, রাশিয়া বিশ্বের ষষ্ঠতম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ। তাই অবরোধ অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। তবে সেটা হবে সমন্বিত। তবে এখনো এটা স্পষ্ট নয় যে এটা খুব একটা কিছু করতে সমর্থ হবে। অবরোধ আরোপ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ’র মধ্যে খুব বেশি মিল নেই।