সত্যজিত্ বিশ্বাস
ঈদে পাল্টে ফেলব ভাবছি
প্রথম বান্ধবী :কীরে, তোর বিছানার বেডকাভারটা এমন ময়লা কেন?
দ্বিতীয় বান্ধবী :ঈদে পাল্টে ফেলব ভাবছি। তাই আর ধুয়ে দিচ্ছি না।
প্রথম বান্ধবী :তোর বসার রুমের ফার্নিচারে এত ময়লা কেন?
দ্বিতীয় বান্ধবী :ঈদে পাল্টে ফেলব ভাবছি। তাই আর পরিষ্কার করছি না।
প্রথম বান্ধবী :জানালার পর্দাও তো বেশ অপরিষ্কার?
দ্বিতীয় বান্ধবী :ঈদে পাল্টে ফেলব ভাবছি। তাই আর লন্ড্রিতে দিচ্ছি না।
প্রথম বান্ধবী :একি, হ্যাঙ্গারে এটা কার শার্ট? তোর হাজবেন্ডের শার্ট এত ময়লা কেন?
দ্বিতীয় বান্ধবী :ঈদে সব পাল্টে ফেলব ভাবছি।
প্রথম বান্ধবী :সেই তখন থেকে এক কথাই বলে যাচ্ছিস। এবার ঈদে এত সব পাল্টে ফেলবি?
দ্বিতীয় বান্ধবী :এতসব কই দেখলি? শুধু সংসারটা পাল্টে ফেলব।
যদি দয়া হয়
প্রথম বন্ধু :ঈদে বাড়ি যাচ্ছিস, আসবি তো দশদিন পরে। সবাই কত বড় বড় মজবুত তালা লাগাচ্ছে আর তুই কিনা লাগাচ্ছিস বিশ টাকা দামের টিপ তালা! সদর দরজায় কেউ এমন তালা লাগায়?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন কী সমস্যা?
প্রথম বন্ধু :আরে গাধা, এটা তো চোর হাত দিয়ে টান দিয়েই খুলে ফেলবে।
দ্বিতীয় বন্ধু :যে তালাই লাগাই, চোর খুলতে পারবে। তারচেয়ে এটা ভালো না? এই তালা দেখে যদি চোরের মনে দয়া হয়।
‘স্বপ্ন’ দেখেই এত খুশি!
প্রেমিকা :কী ব্যাপার এত খুশি খুশি লাগছে যে?
প্রেমিক :গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম, ঈদের দিন তোমার সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে।
প্রেমিকা :স্বপ্ন দেখেই এত খুশি?
প্রেমিক :না, তা না। ‘স্বপ্ন’ দেখেই এত খুশি!
ভয় দেখাচ্ছেন না অভয় দিচ্ছেন?
ঈদের শপিংয়ের জন্য রাস্তায় ভিড়। এরমধ্যে এক গাদা শপিং ব্যাগ নিয়ে এক তরুণী উঠেছে লোকাল বাসে। ভিড় বাসে এক লোকের পাশের সিটটা খালি হতেই ধপ করে বসে পড়লেন।
লোকটি :আরে, আরে আপনি তো আমার হাতের ওপর বসে পড়েছেন।
তরুণী :হাত জায়গা মতো রাখলেই হয়।
লোকটি :ভয় দেখাচ্ছেন না অভয় দিচ্ছেন? (মনে মনে) হাত জায়গা মতো (ব্যাগের ভেতরে) রাখতে গেলে তো শেষে পাবলিকের প্যাদানি খাওয়াবেন।
আনন্দের আশায়
নানা :একজন লোক ঈদ এলেই সারা দেশবাসীকে আনন্দ দেবার জন্য কথা বলেই যায়, বলেই যায়... দর্শকদের কোনো আগ্রহ না থাকলেও বলে যায়, বল তো লোকটা কে?
নাতি :নিশ্চয়ই কোনো জোকার?
নানা :‘ঈদ আনন্দমেলা’র উপস্থাপক।
ব্যতিক্রম তো থাকতেই পারে
প্রথম যুবক :ভাই, দেখছেন ব্যাপারটা? ঈদ আসতে এখনো কত দেরি, কিন্তু লাইন কই এসে ঠেকল?
দ্বিতীয় যুবক :সবাই আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে আসতেই পারে। এই যেমন আমি আসছি।
প্রথম যুবক :দিনকে দিন টিকিটের দাম বেড়েই চলেছে, তারপরও এত ভিড়?
দ্বিতীয় যুবক :তাহলে মনে হয়, ভাড়া আরো বেড়ে যাবার সম্ভাবনায় টিকিট কিনে স্টক করতে এসেছে কেউ কেউ। সবাই যে আমার মতো হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। কেউ কেউ তো আপনার মতোও হতে পারে।
অতি চালাকের গলায় নেকলেস
অতি চালাক স্বামী :আমি বুঝি না, ঈদ মানেই কী খালি খাওয়াদাওয়া আর জামাকাপড় কেনা?
স্ত্রী :আরে তাই তো, ঠিকই তো বলেছ। চলো, এবার তাহলে আমাকে একটা ডায়মন্ড বসানো নেকলেস কিনে দেবে।
ঈদের খুশিতে
তরুণী :মামা, কানের দুল জোড়ার দাম কত?
দোকানি :একশ টাকা।
তরুণী :এটা কোনো কথা! গত মাসেই তো পঞ্চাশ টাকা দিয়ে কিনলাম। ঈদ এলে দাম ডাবল হয়ে যায় কেন?
দোকানি :ঈদের খুশিতে।
ঈদ আনন্দ
প্রথম বন্ধু :আহারে বন্ধু, তোর বউটাকে দেখে সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছিল। যেভাবে তোকে ধরে ধরে হাঁটছিল। তোর ঈদটাই মাটি হয়ে গেছে, তাই না রে?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন?
প্রথম বন্ধু :যেভাবে তোকে ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল ...
দ্বিতীয় বন্ধু :আরে গাধা, খুঁড়িয়ে হাঁটতে যাবে কোন দুঃখে? এবার ঈদে নতুন ৮ ইঞ্চি হাইহিল কিনেছে তো, তাই।
আনলাকি থার্টিন
মামা :কীরে, তোদের ইফতার পার্টি কেমন হলো?
ভাগ্নে :যখনই দেখলাম মোট তেরজন, তখনই বুঝেছিলাম খারাপ কিছু একটা হবে।
মামা :আরে না, এটা একটা কুসংস্কার। তা, খারাপ কী হলো শুনি? ভিড়ের কারণে কোনো রেস্টুরেন্টে বসার জায়গা পাসনি?
ভাগ্নে :তা পেয়েছি।
মামা :তবে?
ভাগ্নে :খাবারের বিলটা আমাকেই দিতে হলো।
এর থেকে ভালো বুদ্ধি কি জানা আছে?
অফিস কর্মচারী :স্যার, এবার ঈদে বেতন কী ডাবল দেবেন?
বস :বেতন ডাবল দিতে যাব কেন?
অফিস কর্মচারী :তাহলে আমার অফিস টাইমটা ডাবল করে দেন।
বস :বলেন কী? সবাই তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার জন্য অনুরোধ করে, আর আপনি উল্টোটা কেন?
অফিস কর্মচারী :গিন্নির শপিংয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য এরচেয়ে কোনো ভালো বুদ্ধি কি আপনার জানা আছে?
বিশ্বকাপ ভাবনা
কোচ :কী এত ভাবছ?
ক্যাপ্টেন :সামনে বিশ্বকাপ, ভাবার বিষয়ের কি অভাব আছে?
কোচ :অনাগত দিনগুলো নিয়ে ভাবো, ঠিক আছে। তবে মন খারাপ কোরো না, দুঃখ পেয়ো না। আমি তো আছি, দুজনে সব ভাগ করে নেব।
ক্যাপ্টেন :কিন্তু আমার তো কোনো দুঃখ নেই।
কোচ :আমি বিশ্বকাপের পরের কথা বলছি।
নস্টালজিক
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট টিমের নামকরা সাবেক ক্রিকেটার বুলবুল গেছেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখতে। বাংলাদেশ দল ব্যাটিং করতে নেমেছে। বুলবুল ড্রেসিং রুমে ঢুকে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন। মাঠের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সেই মাঠ।’ পাশে থেকে একটা ব্যাট হাতে নিয়ে হাওয়ায় ব্যাটিং করে বললেন, ‘সেই ব্যাট।’ ঠিক তখনই ব্যাটের কানায় লেগে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ আউট হয়ে তামিমকে ফিরতে দেখে বললেন, ‘সেই একই ধরনের আউট।’ দর্শকদের চিত্কার শুনে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সেই একই উত্তেজনা।’
তামিম মন খারাপ করে ড্রেসিং রুমে ফিরে বলল, ‘ধুর, ব্যাটের কানায় না লেগে মাঝে লাগলে এটা নিশ্চিত ছয় হতো।’
বুলবুল ড্রেসিং রুম থেকে বের হতে হতে বললেন, ‘সেই একই অজুহাত।’
একজন পরোপকারী মানুষ
ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, চুরি-ছিনতাই ততই বেড়ে যাচ্ছে। তাই সাদা পোশাকের মোবাইল পুলিশ নেমেছে রাস্তায়। এক মহিলার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার মুহূর্তে সাদা পোশাকধারী পুলিশ পেছন থেকে ধরে ফেলল ছিনতাইকারীকে।
পুলিশ :কতদিন ধরে এই কারবারে?
ছিনতাইকারী :স্যার, আপনি যা ভাবছেন, আমি তা না।
পুলিশ :তাই নাকি? তাহলে আপনি কী?
ছিনতাইকারী :একজন পরোপকারী মানুষ। ব্যস্ত রাস্তায় আমি তো আর মহিলার হাত ধরে টানতে পারি না, তাই উনার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টেনে রাস্তা পার করে দিতে চাইছিলাম।
দুর্দান্ত অফার
প্রথম দোকানদার :হায় রে! এমন অফার কেউ দেয়?
দ্বিতীয় দোকানদার :কেন? ভুল কী করলাম?
প্রথম দোকানদার :এই যে লিখে রেখেছেন, বিশ মিনিটে কেনাকাটা সারতে পারলে ২০% ছাড়। আপনি তো বিশাল ধরা খাবেন।
দ্বিতীয় দোকানদার :হাঃ হাঃ হাঃ ও এই ব্যাপার!
প্রথম দোকানদার :হাসছেন কেন?
দ্বিতীয় দোকানদার :এটাই তো আমার বিজনেস ট্রিক্স।
প্রথম দোকানদার :কী করে?
দ্বিতীয় দোকানদার :মহিলাদের ব্যাপারে আমার অগাধ আস্থা আছে। এ অফার দেখে অনেকেই ছুটে এসেছেন। তবে কেনাকাটা শেষ করার পর এ পর্যন্ত কেউই অফারের সুবিধা নিতে পারেনি।
ঈদ কেনাকাটা
প্রথম বন্ধু :কীরে দোস্ত, এবার ঈদে কী নিচ্ছিস?
দ্বিতীয় বন্ধু :বউয়ের শপিং করার পর হাতে টাকা থাকলে তো নেব।
প্রথম বন্ধু :হাতে টাকা নেই, কিন্তু পোটলা কীসের?
দ্বিতীয় বন্ধু :রঙের পোটলা।
প্রথম বন্ধু :রঙের পোটলা কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :গত ঈদের সাদা পাঞ্জাবিটাকে এবার কালার পাঞ্জাবি করে ফেলব।
সহমর্মী
ভিক্ষুক :বাবা, রোজা রমজানের দিন কিছু দিয়া যান। আমার মা নাই, বাবা নাই, চোখ নাই।
পথচারী :এত কিছু না থেকেও তোমার থালায় যা টাকা আছে, আমার তো তাও নাই।
ভিক্ষুক :তাইলে খাড়াইয়া দেখস কী? আমারে ধর...
g কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন