সরকারি নার্সারিটি রক্ষার দাবিতে নাগরিক সমাবেশ

রাজধানীর সকল উন্মুক্ত স্থান, পার্ক, খেলার মাঠসহ বেইলি রোডস্থ সরকারি নার্সারিটি রক্ষার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নেতৃবৃন্দ। গতকাল রবিবার নার্সারিটি রক্ষায় তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশ, মানববন্ধন ও গাছের চারা নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বছরে প্রায় ২৩০ প্রজাতির ১০ লক্ষাধিক চারা সরবরাহ করে ঢাকাকে কিছুটা সবুজ করার রসদদায়িনী রূপে অধিষ্ঠাত্রী এই নার্সারিটিকে ধ্বংস করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এখানে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা মনে করি নার্সারিটিকে ধ্বংস করা সরকারের একটি অযৌক্তিক ও হঠকারী সিদ্ধান্ত। ৩৩ বেইলি রোডস্থ সরকারি নার্সারিটির কর্মকাণ্ড এতো ব্যাপক যে রাজধানীর বাত্সরিক সবুজায়নের শতকরা ৮০ ভাগ গাছের চারা উত্পন্ন হয় এই নার্সারি থেকে। এই স্থানে কমপ্লেক্স হলে কিছু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উন্নয়ন হবে ঠিকই কিন্তু রাজধানী ঢাকা হারাবে ৯০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই নার্সারিটিকে। তারা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি এই নার্সারিটি ধবংস করে এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স হবে। আমরা সবাই জানি আদিবাসীরা মনে করে তারা প্রকৃতির সন্তান, প্রকৃতির সাথেই তাদের বসবাস। অথচ তাদের জন্যই প্রকৃতি বিনষ্ট করে এই ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত মূলত: তাদের চিন্তা-চেতনা ও নীতির পরিপন্থী একটি কাজ হবে। এটা আদিবাসীদের হেয় করার একটি চক্রান্ত হতে পারে। আদিবাসীরাও নার্সারি ধ্বংস করার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি না। আমরা চাই সরকার বিকল্প জায়গায় আরো অধিক পরিসরে আদিবাসীদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী চারার গবেষণাগার হিসাবে স্বীকৃত এই জীবন ও পরিবেশ রক্ষাকারী নার্সারীটিকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। নার্সারি রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক মিহির বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিস-এর মহাসচিব ইফমা হোসেন, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল, আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্য সচিব জাবেদ জাহান, অধ্যাপক আতাউর রহমান, হুমায়ন কবির, ড. অসিত চন্দ্র রায় প্রমুখ।