কোন কোন সময় রাজনীতিকরা আপস করতে বাধ্য হন

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, রাজনীতিবিদরা অবশ্যই দেশের স্থিতিশীলতা তথা উন্নয়ন চান। তিনি বলেন, দেশের প্রশাসনে যারা রয়েছেন তারা ধৈর্য-প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও অনেক সময় রাজনীতি ও প্রশাসনের মধ্যে উন্নয়ন কাজের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ যারা মাঠে রাজনীতি করেন তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমলাদের সাথে মতদ্বৈততা দেখা দেয়। রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত হতে হয় বলে কোন কোন সময় কাজের ক্ষেত্রে আপোষ করতে তারা বাধ্য হন। তারপরও সবার মনে রাখা দরকার, লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাষ্ট্রের নিয়মকানুন-আইন মেনে চলতে হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়’ কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল। বক্তব্য রাখেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান, মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান, মঠবাড়িয়ার পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মদ ফেরদৌস, সাংবাদিক মাহমুদ হোসেন শুকুর প্রমুখ। আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজনীতিতে সুস্থতা দরকার। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হলে সম্পদ বৃদ্ধি করতে হবে। জেলা বা উপজেলায় এককভাবে উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের সার্বিক সম্পদ বৃদ্ধি না পায়। যখন আমরা নিজস্ব সম্পদ সংগ্রহ করি তা রাজনৈতিক কারণে দূরদর্শিতার সাথে ব্যবহার করতে সক্ষম হই না। বিবাদ-বিভেদ তথা রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রায়ই আমাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। গত বছরের সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটে দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হয়। তখন এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও বলেছিলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়া সহজ হবে না। তারপরও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কারণ রাজনীতিতে নানা বিরোধী পক্ষ থাকলেও সকলেই দেশপ্রেমিক। মন্ত্রী বলেন, ৩০ বছর ধরে আমি পিরোজপুর জেলার উন্নয়ন সমন্বয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থ সংকট থাকা সত্ত্বেও খাত ওয়ারী অনেক সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। প্রশাসনের কর্তব্যকে সফল করতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সহ্যশক্তি’ শব্দের সাথে আমরা পরিচিত। বর্তমান অবস্থায় কাজের প্রয়োজনে এর চর্চা বাড়াতে হবে। যাতে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক নেতৃত্ব তথা জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। নেতৃত্ব কার্যকর করতে না পারলে বা অনুসারীদের আদেশ-নির্দেশ প্রতিপালনে অভ্যস্ত করতে সক্ষম না হলে সে নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। আর শুধু প্রজন্মকে দোষারোপ করলেই চলবে না নিজেদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুনদের অভিভাবক তথা পথপ্রদর্শক হয়ে মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, পিরোজপুরসহ দেশের সর্বত্র পরিবেশ সুশৃঙ্খল ও সকলের মধ্যে ঐকমত্য থাকলে মানুষের কল্যাণ হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনকে সাহায্য করা আবশ্যক। সভায় এ কে এম এ আউয়াল এমপি বলেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দীর্ঘসময় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে দেশে যে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন তা আবারও পালনে সক্ষম হবেন। তার নেতৃত্বে পিরোজপুর তথা দক্ষিণাঞ্চলে গত ৩০ বছরে যে পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় এ জেলায় নতুন করে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জেলা সদরের সংসদ সদস্য হিসাবে এ উন্নয়ন তত্পরতায় আমরা তাকে অতীতের মত সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে নানা প্রকল্প নিয়ে উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপন্নতা থেকে রক্ষা করতে হবে। মন্ত্রীর পরামর্শে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। মাঝে মাঝে জেলা পর্যায়ের সভাগুলোতে উপস্থিত থেকে সকল বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার জন্য তিনি মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। এসময় এমপি জানান, এই জেলায় রাজনৈতিক হানাহানি নেই, অপরাধের হার তুলনামূলক কম। মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। এ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল, মাদকের প্রভাব ৮০-৮৫% হ্রাস পেয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মাদক প্রতিরোধে আরো ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। সমন্বয় সভায় জেলার পৌরসভার মেয়রবৃন্দের মধ্যে পিরোজপুরের হাবিবুর রহমান মালেক, স্বরূপকাঠির শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দের মধ্যে মজিবুর রহমান খালেক (সদর), এস এম আহসান কবির (কাউখালী), আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল (ভাণ্ডারিয়া), ওয়াহিদুজ্জামান (নেছারাবাদ), মাসুদ সাঈদী (জিয়ানগর), ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীসহ (নাজিরপুর) জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন । সভার আগে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় মন্ত্রীও সংসদ সদস্যকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিকালে জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সেখানে তিনি বলেন, জেলা শহরগুলোতে শক্তিশালী প্রেসক্লাব থাকা দরকার। সাংবাদিকরা অনেক সময় নানা কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েন। যা জাতীয় পর্যায়ে থেকে মফস্বল পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু ঐক্যই সাংবাদিকসহ সকলের শক্তি। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন শুকুর, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান নাসিম আলী, সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল আহসান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম পারভেজ, বর্তমান সভাপতি শফিউল হক মিঠু, সাধারণ সম্পাদক ফসিউল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ। এসময় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এসময় উপস্থিত ছিলেন। জেপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়:এরপর জেলা সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রুমে জাতীয় পার্টির (জেপি) পিরোজপুর জেলা কমিটি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন দলটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। জেপি’র জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট আলী আহম্মদ খান মিলুসহ এখানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, যুগ্ম-মহাসচিব খলিলুর রহমান খলিল, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও ভাণ্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার জোমাদ্দার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রাজু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সদস্য সচিব ছিদ্দিকুর রহমান টুলু, যুগ্ম-আহ্বায়ক ভিটাবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য নূরুজ্জামান হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য রমিজুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ। ‘আলোকিত ভাণ্ডারিয়া গরব মোরা সবাইকে নিয়া’ কর্মসূচির উদ্বোধন:ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শনিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া বন্দরের শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের উদ্যোগে ‘যুব সমাজে’র আয়োজনে এক যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ সময় মন্ত্রী সুইচ টিপে ভাণ্ডারিয়া শহরের প্রতিটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সংযোজিত বাল্ব জ্বালিয়ে ‘আলোকিত ভাণ্ডারিয়া গরব মোরা সবাইকে নিয়া’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ইতিমধ্যে এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলমত নির্বিশেষে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ- কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, স্থানীয় নেতা হাফিজুর রশিদ তারেক জোমাদ্দার, ঢাকাস্থ ভাণ্ডারিয়া সমিতির সভাপতি আহসানুল কিবরিয়া ফরিদ মল্লিক, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এনামুল কবির টিপু তালুকদার, যুব সংহতি নেতা শওকত ইকবাল মিটুল মল্লিক, উপজেলা ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক সরদার মামুনুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এহসাম হাওলাদার প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান, জেপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক জোমাদ্দার, উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহবুবুর রশিদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, গৌরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন বাবুসহ আওয়ামী লীগ ও জেপির নেতা-কর্মীরা। এদিকে গতকাল সকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সদ্যপ্রয়াত ভাণ্ডারিয়া বন্দরের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী এবং ভাণ্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের পিতা মরহুম নূরুল হক জোমাদ্দারের বাসভবনে যান এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে মন্ত্রী স্থানীয় একটি সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া থানা পার্কের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং বৈশাখী মেলায় র্যাফেল ড্র’র প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত নদমুলা গ্রামের মোটর মেকানিক কবির হোসেনের হাতে মোটর সাইকেলের চাবি হস্তান্তর করেন। রাজাপুরে মতবিনিময় : বরিশাল অফিস থেকে লিটন বাশার জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকে তাহলে পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। অর্থের অপচয় হয়। দেশের উন্নয়নের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক সমস্যা সমাধানে নতুন প্রজন্মকে উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরাও চেয়েছি। বর্তমানে নির্বাচন পদ্ধতি থেকে শুরু করে সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ী করতে হচ্ছে। কারণ উচ্চ আদালতের আদেশে সংবিধান সংশোধিত হয়েছে। আইন পাস হয়েছে। এখন সংবিধানই সবকিছু। বর্তমানে একটি জোট নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু নির্বাচন হতে হবে সংবিধান অনুযায়ী। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজাপুর উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি’র নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বরিশালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী কয়েকটি সড়কের নাম উল্লেখ করে বলেন, আমি যোগাযোগ মন্ত্রী থাকা অবস্থায় বরিশালসহ এ অঞ্চলের উন্নয়নে সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। নদী বেষ্টিত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব, তা আমরা প্রমাণ করেছি। বরিশালের উন্নয়নে প্রয়াত সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিরন আজ বেঁচে নেই। যতবার আমি বরিশাল আসব ততোবার তার কথা মনে পড়বে। উন্নয়নে হিরনের ভূমিকা রয়েছে। দেশের সার্বিক অবস্থার কথা তুলে ধরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি। দু’টি রাজনৈতিক দল থেকে ৫ বার মন্ত্রী হয়েছি। দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনার সাথে যুক্ত থেকে এখনো মনে করছি আমাদের আগামীর পথ চলার কন্টকমুক্ত নয়। তবে সবার মনে রাখতে হবে সব কিছুর উপরে আমাদের দেশ। দেশের স্বার্থে আগামী প্রজন্মকে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে আন্দোলন করলে তা-ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে করতে হবে। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টি জেপি যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান, জেপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, জেপি’র সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুব সংহতির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সুলতান। মতবিনিময় সভা শেষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বরিশাল নগরীর মুসলিম কবরস্থানে সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে বিশেষ দোয়া-মোনাজাতে আরো অংশগ্রহণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রউফ প্রমুখ।