শেষ ধাপের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত শেষ ধাপের ১৩টি উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৯৬ জন প্রার্থীর প্রতীক রবিবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উত্সব মুখর পরিবেশে সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। এর আগে ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনার সাথে প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রতীক নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হন। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই এলাকায় নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আইনে নির্দলীয় হলেও গত পাঁচ ধাপের মতো প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ভোটের লড়াই শুরু হয়েছে। আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত প্রচারণা চলবে। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টার আগ থেকে নির্বাচনের পরবর্তী ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রার্থীরা কোন ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। গত শনিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনে তিনটি পদে ৪১জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ২২জন, ভাইস চেয়ারম্যান ১৮ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ১ জন। ১৩ উপজেলায় ভোটযুদ্ধে অংশ নেবেন ১৯৬জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। যাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৬৯জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২জন। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সর্বোচ্চ ৯জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর সদর ও নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ৮ জন করে লড়বেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাত্র ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে টাঙ্গাইলের বাসাইলে সর্বোচ্চ ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ৭ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে ২৩৭ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ১৩ উপজেলায় মোট ২৪৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৯৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৯৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ জন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকীবউদ্দিন আহমদ গত ১৬ এপ্রিল ১৪ উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এর মধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এদিকে ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তিনজন। এতে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে একজনের প্রার্থিতা বাতিল ও একজন প্রত্যাহার করেন। এখানেও ১৯ মে ভোট হবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ :নির্বাচনী বিধিতে বলা হয়েছে, পদে থেকে নির্বাচনী কার্যক্রমে উপজেলা পরিষদের অফিস ও যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। উপজেলা পরিষদ বা এর আওতাধীন কোন ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কার্যক্রম বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে না এবং উপজেলায় অবস্থিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বা এনজিও’র কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা যাবে না। প্রার্থীরা পথসভা, ঘরোয়া সভা ব্যতীত কোন জনসভা, শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। রাত ৯টা থেকে দুপুর ২টার পূর্ব পর্যন্ত প্রার্থীদের মাইক্রোফোন ও শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী কোন যন্ত্রও ব্যবহারে বাধা-নিষেধ আরোপ রয়েছে। প্রার্থীরা পথসভার জন্য একটি এবং নির্বাচনী প্রচারণার জন্য একটির অধিক মাইকও ব্যবহার করতে পারবেন না। সরকারি সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলো ও রেস্ট হাউজ ব্যবহার করতে পারবেন না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর সমমর্যাদা সম্পন্ন সরকারি সুবিধাভোগীরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। বিধিমালা লংঘন করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের দণ্ডে দণ্ডিত অথবা ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। যে সব উপজেলায় ভোট :নয়টি জেলার যে সব উপজেলায় নির্বাচন:রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার তালতলি, টাঙ্গাইলের বাসাইল, গাজীপুর সদর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, রাজবাড়ীর কালুখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ।