মীর কাসেমের বিরুদ্ধে মামলার রায় যে কোন দিন

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোন দিন ঘোষণা করা হবে। রবিবার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন। এ নিয়ে দুই ট্রাইব্যুনালে মোট ৩টি মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর আগে সকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিখণ্ডন করে। মীর কাসেমের বিরুদ্ধে আনা ১৪টির মধ্যে ১২টি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে দাবি করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আসামিপক্ষের দাবি, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। মীর কাসেম অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন বলে আশা করছে তারা। গতকাল তৃতীয় দিনে আসামিপক্ষে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন। এরপর আসামিপক্ষের জবাবের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ। এ মামলায় দুই দিনে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শেষ করে। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, মীর কাসেমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। তুরিন আফরোজ বলেন, একাত্তরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আল বদর বাহিনীর হেড কোয়ার্টার ডালিম হোটেলের পূর্ণ কর্তৃত্ব ছিল মীর কাসেম আলীর হাতে। সেখানে নিরীহ বাঙালিদের এনে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের পর হত্যা করে অনেকের লাশ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ তাদের তথ্য-প্রমাণে নিজেরাই প্রমাণ করেছে মীর কাসেম কখনো ডালিম হোটেলে ছিলেন না। ডালিম হোটেল মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডার নিয়ন্ত্রণে ছিলো। ১৯৭২ সালে মইত্যা গুন্ডার বিরুদ্ধে এজন্য একটি মামলা হয়েছিলো। তিনি বলেন, মীর কাসেম আলী যে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না সেটাই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন বলে আশা করছি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপেক্ষ সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র তিনজন। এর আগে ২০১৩ সালের ৬ মে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগে তদন্ত চূড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনে জমা দেয়।