বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ১৪৯ হাজার কোটি টাকা
প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৪, ২৩:২২
আসন্ন বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রাজস্ব কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন গতকাল রবিবার চট্টগ্রামে এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় এ তথ্য প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সদস্যদের সাথে এ মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ট্রেড এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, রাজস্ব বোর্ডের সদস্যবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেটের শুল্ক, মূসক ও কর অঞ্চলের কমিশনারবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের আকার হবে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা যা মেয়াদকালের পঞ্চম বর্ষে গিয়ে দ্বিগুণে উন্নীত হবে। বিগত বছরগুলোতে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্পদের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব প্রদানের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি জানান। চেয়ারম্যান বাণিজ্যকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাজস্ব বিভাগ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে মত প্রকাশ করেন। বর্তমানে ১২ শতাধিক পণ্যের উপর সাপ্লিমেন্টারী ডিউটি ও রেগুলেটরি ডিউটি কমিয়ে মাত্র ১৭০টি পণ্যের উপর তা বলবত্ থাকবে জানিয়ে দেশের গ্রোয়িং মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা বিবেচনায় ব্যবসা, শিল্প, রাজস্ব ও ভোক্তাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হবে বলে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান।
সভায় চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ইতিমধ্যে প্রেরিত শুল্ক সংক্রান্ত ৪৭টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ১৬টি এবং আয়কর সংক্রান্ত ৪৪টি প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি মানবসম্পদ উন্নয়নে সেক্টরওয়াইজ এক্সপার্টাইজ তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, সিরামিক্স, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, ওষুধ ও জাহাজ নির্মাণ ইত্যাদির মত সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ, লোকাল এলসি’র ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ উেস কর বাতিল করা এবং দ্বৈবচয়নের ক্ষেত্রে করদাতাদের হয়রানি লাঘব করতে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্বীকৃত এসেমব্লিং প্লান্টে ইলেক্ট্রনিক কম্পোন্যান্ট আমদানি করে ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরির ক্ষেত্রে শুল্কহার হ্রাস করা, গণপরিবহন ও আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশের উপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ না করা, স্পেশাল ইকনোমিক জোন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ, মহেশখালীতে কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন এবং সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানান।
মতবিনিময় সভায় চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ তালিকায় না থাকা সত্ত্বেও কোন কোন পণ্যকে ‘ডেন্জারাস কার্গো’ বিবেচনায় বন্দরে কন্টেইনার আটকে রাখার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং সর্বোচ্চ মূল্য বিবেচনায় নিয়ে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশে উত্পাদন হয় না এমন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।