দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র
প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৪, ১৯:৪২
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান
প্রভাষক, উদ্ভিদবিদ্যা
রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ ঢাকা
অধ্যায়-১: কোষ ও এর গঠন
শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য রয়েছে জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ১ নম্বর অধ্যায় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর।
প্রশ্নঃ ক. কোষ কাকে বলে?
প্রশ্নঃ খ. সাইটোসল বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্নঃ গ. চিত্র-p এর অনুলিপিকরণ বর্ণনা কর।
প্রশ্নঃ ঘ. বংশগতিতে চিত্র- p এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ক. কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক যা স্বনির্ভর ও আত্মপ্রজননশীল, বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত এবং পূর্বতন কোষ হতে সৃষ্ট।
উত্তর: খ. প্লাজমা মেমব্রেনে বেষ্টিত এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের বাইরে কোষীয় অঙ্গানু ছাড়া বাকি অস্বচ্ছ, সমসত্ত্ব ও কলয়েড জাতীয় অর্ধতরল সজীব প্রোটোপ্লাজমীয় পদার্থকে সাইটোসল বলে। এতে বিভিন্ন জৈব (প্রোটিন, লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, নিউক্লিক এসিড এনজাইম প্রভৃতি) ও অজৈব অনু (৯০% হচ্ছে পানি, সামান্য পরিমাণ খনিজ লবণ, যেমন: Nace লবণ এবং গ্যাস, যেমন: O2 ও CO2) ভাসমান বা দ্রবীভূত থাকে। বিভিন্ন অঙ্গানুকে ধারণ করে বলে সাইটোসলকে সাইটোপ্লাজমিক ম্যাট্রিক্স নামেও অভিহিত করা হয়।
উত্তর: গ। চিত্র- p DNA অণুর ডাবল হেলিক্স। যে প্রক্রিয়ায় DNA ডাবল হেলিক্স অবিকল আরেকটি অণুর সৃষ্টি করে তাকে DNA অণুর অনুলিপিকরণ বা প্রতিরূপ সৃষ্টি বলে। DNA এর প্রতিরূপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি অর্ধসংরক্ষণশীল প্রতিরূপ সৃষ্টি নামে পরিচিত। DNA এর প্রতিরূপ সৃষ্টি নিম্নোক্ত ধাপগুলোর মাধ্যমে অতি দ্রুত, অবিচ্ছিন্ন ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়।
১. হাইড্রোজেন বন্ডের বিলোপ সাধন: প্রতিরূপ সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে পিউরিন ও পাইরিমিডিন বেসের সংযোগকারী হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে যায়। ফলে DNA অণুর একাংশ পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে পড়ে এবং প্রতিটি হেলিক্স ছাঁচ হিসেবে কার্যকর হয়।
২. সম্পূরক সৃষ্টিঃ পরস্পর থেকে পৃথক হওয়ার পর হেলিক্স বা সূত্র দুটি ছাঁচের মতো কাজ করে। নতুন হেলিক্স তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান অর্থাত্ শর্করা, বেস ও ফসফেট যথা সময়ে যথাস্থানে উপস্থিত হয় এবং সম্পূরক সূত্র সৃষ্টি হয়। সম্পূরক সৃষ্টির জন্য অবশ্য DNA পলিমারেজ নামক এনজাইম এবং ম্যাগনেসিয়াম আয়নের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়।
৩. ছাঁচের বেসের অনুক্রম অনুসারে সম্পূরক বেসের বিন্যাস ও হাইড্রোজেন বন্ডের সৃষ্টিঃ নতুন সৃষ্ট সূত্র দুটিতে ছাঁচের বেসের অনুক্রম অনুসারে সম্পূরক বেসগুলো বিন্যস্ত থাকে। অর্থাত্ ছাঁচে যদি অ্যাডেনিন থাকে তবে তার বিপরীতে সৃষ্ট নতুন সূত্রটিতে থাইমিন সংযোজিত হয়। অতঃপর ছাঁচের ও নতুন সৃষ্ট সম্পূরক বেসের মধ্যে পুনরায় হাইড্রোজেন বন্ডের আবির্ভাব হলে একটি DNA অণু থেকে দুটি DNA অণুর সৃষ্টি হয়।
উত্তরঃ ঘ. যে প্রক্রিয়ায় পিতা-মাতার আকার, আকৃতি, দেহের গঠন-প্রকৃতি, শরীরবৃত্ত, আচরণ ইত্যাদি নানাবিধ বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমিকভাবে তাদের সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হয় তাকে বংশগতি বলে। যে সব বস্তুর মাধ্যমে পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয় তাদেরকে বংশগতি বস্তু বলা হয়। বংশগতি বস্তুর প্রধান উপাদান ক্রোনোসোম। ক্রোমোসোমে রয়েছে চিত্র - P(DNA) যেখানে জীনগুলো সুসজ্জিত থাকে। জীনই হচ্ছে সকল জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক যা পর্যায়ক্রমে বাহ্যিক পরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। যৌন জননে অংশ গ্রহণকারী জীবের জননকোষ সৃষ্টির প্রাক্কালে মিয়োসিস বিভাজন ঘটে। এ সময় সমসংস্থ ক্রোমোসোমযুগল পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করে। ক্রোমোসোমের সাথে এর জীনগুলো জননকোষের মধ্যে এসে পড়ে। নিষেকের ফলে পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। এ জাইগোটের মধ্যে পিতা-মাতার জীনগুলো একত্রিত হয় এবং সন্তান-সন্ততির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ঘটে। এভাবে বংশানুক্রমিকভাবে জীন সঞ্চায়িত হয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয়, বংশগতিতে চিত্র P(DNA) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।